রাঙামাটি শহরে গণপরিবহনের অন্যতম প্রধান বাহন অটোরিকশা। তবে এখন এলপি গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে শহরের যান চলাচল।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশাচালকরা। শহরের চারটি এলপি গ্যাস ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সচল রয়েছে একটি মাত্র।
বিকেলে শহরের বনরুপা এলাকার মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশন গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের সামনে সিএনজি অটোরিকশা দীর্ঘ লাইন দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না অভিযোগ চালকদের।
মো. শফিকুল ইসলাম নামে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক বলেন, সকাল ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখনো গ্যাস পাইনি। কখন সিরিয়াল আসবে তাও জানি না। গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দুপুরে ভাত খাওয়া হয়নি।
সজল বড়ুয়া নামে আরেকজন চালক বলেন, দুপুর ১২টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি সিরিয়াল আগাচ্ছে না। অন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস নেই, তাই বাধ্য হয়ে সবাই এখানে ভিড় করেছে।
মো. আলিম নামে একজন চালক বলেন, সকাল ১১টায় লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেল ৪টায় মাত্র ৪০০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। সারাদিন লাইনে কেটে যাওয়ায় আজকে গাড়ি তেমন চালাতে পারবও না।
রাঙামাটি জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান (বাবু) বলেন, সকাল থেকে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। মাত্র একটা স্টেশন থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তাও অল্প করে। সকাল থেকে আমাদের সিএনজিচালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাড়ি চালাতে পারছি না। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে, এখন প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয় দেখা যাক।
এদিকে রাঙামাটি শহরের চারটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সচল রয়েছে বনরুপা এলাকার মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনটি। স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. মহসিন বলেন, শুক্রবার আমরা ৭ হাজার ২০০ লিটার গ্যাস পেয়েছি। শহরের বাকি পাম্পগুলোতে গ্যাস না থাকায় সকাল থেকেই আমাদের এখানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতিটি সিএনজিকে ৩০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হয়েছে। ২টার পরে প্রতি সিএনজিকে দেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকার করে। পাম্পের সামনে সিএনজির দীর্ঘ লাইন দাঁড়িয়ে রয়েছে।
রাঙামাটির শহরের ভেদভেদি এলাকার মেসার্স মা পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এলপিজি অটো গ্যাস ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় দাস বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের পাম্পে গ্যাস নেই। আমরা চাহিদা দিয়েও গ্যাস পাচ্ছি না। ফলে বাধ্য হয়ে ফিলিং স্টেশনটি আমাদের বন্ধ রাখতে হয়েছে। কবে গ্যাস পাব- তা সঠিক বলা যাচ্ছে না।
মানিকছড়ি আলাদিন এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশনের অপারেটর সোহেল ত্রিপুরা বলেন, আমাদের পাম্পে এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস নেই। চাহিদা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না, কোম্পানি সাথে যোগাযোগ করেও পাওয়া যাচ্ছে না। পাম্প আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, সকালে বিষয়টি আমাদের অবগত করা হয়েছে। পাম্পগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে। কিছু পাম্পে ৩০ তারিখের পর থেকে তারা গ্যাস আনতে পারেনি। আরেকটি পাম্পে মেশিন নষ্ট হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। আপাতত একটা পাম্পে গ্যাস সরবরাহ সচল রয়েছে। বাকিগুলো গ্যাস দিতে পারছে না, স্বাভাবিকভাবে একটার উপর একটু চাপ পড়বে। জেলা প্রশাসন থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। আশা করছি, এটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
প্রতিনিধি/এলএ




