নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বাকিতে সিগারেট না দেওয়া নিয়ে মনোহারি দোকানে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দোকানিকে দগ্ধ করার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ভোরে উপজেলার রোয়াইলবাড়ী আমতলা ইউনিয়নের সহিলাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার সুমন মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার সুমন উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেংজানা গ্রামের বাসিন্দা।
দগ্ধ দোকানি ইব্রাহিম খলিল একই গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি সাহিতপুর বাজারে 'ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে একটি মনোহারি দোকান চালাতেন।
আগুনে দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। সেই সাথে খলিলের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খলিল বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলাম জানান, আগুনে খলিলের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে এবং তার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন প্রায়ই দোকান থেকে বাকিতে জিনিসপত্র নিয়ে আর টাকা দিতেন না। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি দোকানে এসে খলিলের কাছে বাকিতে সিগারেট চান। খলিল বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা একটি বোতল থেকে পেট্রোল নিয়ে দোকানের ভেতরে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ইব্রাহিম খলিল দগ্ধ হন।
ঘটনার পরপরই বাজারের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং খলিলকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযোগ না হওয়ায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে সুমন মিয়াকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, দগ্ধ খলিলের স্বজনরা ঢাকায় তার চিকিৎসায় ব্যস্ত রয়েছেন। এলাকায় ফিরে এসে থানায় মামলা করবেন বলে পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিনিধি/এলএ




