দশ মাসের শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে ফিরতে মাদারীপুর থেকে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এসেছেন সাথী বেগম (২৯) নামে এক নারী। স্বামী সুমন মিয়া(২৮) যোগাযোগ বন্ধ করে অন্যত্র বিয়ে করেছেন। এ অবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বর শিশুকে নিয়ে কেন্দুয়া থানায় গিয়েছেন। পরদিন পুলিশ তাকে শিশুসন্তানসহ সুমনের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে তালাকের নোটিশ দিয়েছেন সুমন।
সাথীর হাতে থাকা কাবিননামা ও তালাকের নোটিশের অনুলিপি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সুমনের বাবা মোহাম্মদ হাদীস মিয়াও তার ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাথী জানান, ২০২৪ সালে ইমো চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে সুমনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তখন সুমন বিদেশে ছিলেন। পরে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুমনের পাঠানো তালাকের নোটিশেও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর সুমনের স্বাক্ষর করা তালাকের নোটিশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭(১) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সাথীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টা, মারধর, হুমকি ও পরকীয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। নোটিশে ৯০ দিন পর তালাকনামা রেজিস্ট্রি করে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
সাথীর দাবি, তিনি এখনো স্বামীর সংসার করতে চান। সুমন অন্যত্র বিয়ে করে থাকলেও সন্তানসহ তাঁকে মেনে নিতে রাজি তিনি। তাঁর চাওয়া, শিশুকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকার সুযোগ।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দুয়া থানার এসআই সাঈদ ও এসআই শ্রাবণ সাথী ও তাঁর শিশুকন্যাকে সুমনের বাড়িতে পৌঁছে দেন। সেখানে সুমনকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাড়িতে নেই এবং বর্তমানে নতুন স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছেন।
সুমনের বাবা মোহাম্মদ হাদীস মিয়া বলেন, আমার ছেলের এই বিয়ে সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। আগে জানলে আমি তার দ্বিতীয় বিয়ে কখনোই করাতাম না।
কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি থানায় আসার বিষয়টি আমি জানি। তবে তিনি এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তাকে সার্বিক আইনি সহায়তা করা হবে।
সুমনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/ এজে




