শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়ে না ফেরার দেশে ফুলমতি

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ এএম

শেয়ার করুন:

মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়ে না ফেরার দেশে ফুলমতি

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নির্যাতনের শিকার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অসুস্থতাজনিত কারণে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

ফুলমতির ছেলে মনিরাজ কুমার জানান, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর ডান হাত-পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি অনেকটা শয্যাশায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হবে।

রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের উত্তরপাড়ায়। তিনি মৃত কুশিরাম সরকার ফসিয়ার স্ত্রী। স্বামী-সন্তান নিয়ে অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থায় জীবন কাটিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বীরাঙ্গনা'র স্বীকৃতি পেলেন সেই ঝর্ণা দিওসহ ৬ নারী

পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় একদিন পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ফুলমতিদের বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে ঘর থেকে বের করে নির্যাতন করে। মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াবহ স্মৃতি বুকে নিয়েই দীর্ঘ জীবন পার করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে ফুলমতিকে দীর্ঘ ৪৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। সরকারি দপ্তর ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরনা দেওয়ার পর ২০১৬ সালের মার্চে বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান তিনি। স্বীকৃতি পাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল তাঁর জীবনে।

দাম্পত্য জীবনে চার ছেলে ও এক মেয়ের মা ছিলেন ফুলমতি। ১৯৮৮ সালে তাঁর স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়া মারা যান। এরপর সন্তানদের নিয়ে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন কাটান তিনি।

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী বলেন, বার্ধক্যজনিত কারণে বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন বীরাঙ্গনাকে হারালাম।

মৃত্যুকালে ফুলমতি চার ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর