শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে তিন আইনজীবীকে মারধর ও একটি চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানান।
ভিডিও বার্তায় কামরুল হাসান বলেন, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র কিংবা রাষ্ট্রের পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডে কোনো আইনজীবী জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো আইনজীবী আইনের বাইরে চলতে পারেন না।
আইনজীবীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও ভিডিও বার্তায় তুলে ধরেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি। তিনি আইনজীবীদের সুরক্ষায় সুরক্ষা আইন চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
এর আগে বুধবার শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে তিন আইনজীবীকে মারধর এবং একটি চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিএনপির একটি পক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করা আইনজীবীরা হলেন সানোয়ার মল্লিক, শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানা।
অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবীর কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে মিছিল করেন। একপর্যায়ে মিছিল থেকে আইনজীবী সানোয়ার মল্লিককে আদালত ভবনের সিঁড়িতে মারধর করা হয়। পরে আইনজীবী শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে গিয়েও হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ। তার দাবি, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ওই সংগঠনের নামে কিছু লোক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি করে থাকেন। এর প্রতিবাদেই বিএনপি আদালত চত্বরে মিছিল করেছে।
মাহবুব মোর্শেদ বলেন, মিছিল থেকে সংক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কিছু করে থাকতে পারেন। তবে কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা তিনি বলতে পারবেন না।
এদিকে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
ওসি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এলএ




