বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সাতক্ষীরা যুবদলের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, ‘বাদ পড়েছেন’ অনেক ত্যাগীরা

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সাতক্ষীরা যুবদলের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, ‘বাদ পড়েছেন’ অনেক ত্যাগীরা
যুবদলের লোগো।

দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হয়েছেন হাফিজুর রহমান মুকুল, সিনিয়র সহসভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম বাবু, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম চন্দন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম রানা সবুজ।

তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পর দলের ভেতরে একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং বিভিন্ন সময়ে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন কয়েকজন নেতা কমিটিতে জায়গা না পাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন তাদের অনুসারীরা। বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ সমন্বয়ক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টার বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

দলের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা বলছেন, সাতক্ষীরা জেলা যুবদলে দীর্ঘদিন ধরে দুটি বলয় সক্রিয়। 

তাদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে একটি পক্ষের নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে অন্য পক্ষের দীর্ঘদিনের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন। তাদের মতে, দুই পক্ষের নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হতো।

সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল আলম বাবু বলেন, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ‘একপেশে’ হয়েছে। তার ভাষ্য, সাতক্ষীরা জেলা যুবদলে দুটি দৃশ্যমান বলয় রয়েছে। দুই পক্ষকে সমন্বয় করে কমিটি করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হতো।

রফিকুল আলম বাবু বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অনুরোধ করব, অতি দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা হোক। তা নাহলে সাতক্ষীরা জেলা যুবদল আরও দুর্বল অবস্থায় চলে যাবে। তিনি উভয় পক্ষের সমন্বয়ে কমিটি পুনর্গঠনের আহ্বান জানান।

জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলামও দুই পক্ষকে মিলিয়ে কমিটি করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে করলে ভালো হতো, এটাই আমার মতামত। তার মতে, দীর্ঘদিন মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদেরও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন ছিল।

জেলা কৃষকদলের সাবেক আহ্বায়ক আহসানুল কাদির স্বপন বলেন, যুবদল বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন। সাতক্ষীরায় সংগঠনটির দুটি বলয় রয়েছে। কিন্তু নতুন কমিটিতে একটি পক্ষকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের উচিত অনতিবিলম্বে এই কমিটি স্থগিত করে উভয় পক্ষের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা। তাহলে উভয় পক্ষই রাজনীতিতে সমান সুযোগ পাবে। এতে যুবদলের রাজনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি সাতক্ষীরায় বিএনপিও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে।

নতুন কমিটিতে জায়গা না পাওয়া নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন আইনুল ইসলাম নান্টা। তিনি ১৯৯১ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন বলে তার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিচিতি থেকে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি সাতক্ষীরা পৌর ছাত্রদল, জেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি জেলা যুবদলের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর জেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমন্বয়ক ও সহসমন্বয়কদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই সমন্বয়ক কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

নান্টার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ৪৪টি মামলার আসামি হয়েছেন এবং নয়বার কারাভোগ করেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলে আগের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বিভিন্ন কর্মসূচিতেও নান্টা সক্রিয় ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর সাতক্ষীরায় যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে তার অনুসারীদের দাবি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও তার নেতৃত্বে কর্মসূচি পালনের কথা তারা উল্লেখ করেন।

জেলা যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকা এবং বিভিন্ন সময়ে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার নেতাদের অনেকেই এবার কমিটিতে জায়গা পাননি। এতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

আহসানুল কাদির স্বপন বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন ছিল। একটি পক্ষকে একেবারে বাদ দিয়ে কমিটি করায় আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই কষ্ট পেয়েছি।

রফিকুল আলম বাবুও বলেন, যারা দুঃসময়ে মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের এভাবে অবমূল্যায়ন করা আমরা আশা করিনি।

কেন্দ্রীয় যুবদলের ঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফলে বাদ পড়া নেতাদের অনেকেই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পাবেন কি না, সেটিও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দলের একাংশের নেতারা বলছেন, শুধু পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কয়েকজনকে পদ দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

নতুন কমিটি নিয়ে যাঁদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল বা অন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বক্তব্য এ বিষয়ে পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকেও কমিটি নিয়ে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর