চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতারের পর ছিনিয়ে নেওয়া আবু সিদ্দীককেও(৭০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিসিআইসি ও দর্শনা থানা পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে দর্শনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোল্ল্যা আরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে চণ্ডীপুর গ্রামের তরিবত মন্ডলের ছেলে আবু সিদ্দীককে আটক করা হয়।
পরে আটক আবু সিদ্দীককে থানায় নেওয়ার সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং হামলা চালান বলে অভিযোগ পুলিশের। এ সময় হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলের হেডলাইট ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করেন এবং পুলিশের হেফাজত থেকে আবু সিদ্দীককে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, চণ্ডীপুর গ্রামের রবি হালদারের ছেলে লক্ষণ (৩৮), সেলিম উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ হোসেন (১৯), হারুন অর রশিদের ছেলে ফরহাদ হোসেন (১৯), মিলন হালদারের মেয়ে ও সঞ্জিত হালদারের স্ত্রী সোনালী হালদার (৩০), নব কুমার বিশ্বাসের মেয়ে ও সঞ্জয় হালদারের স্ত্রী কণা রাণী (২৫), খোকনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪০), সদর মন্ডলের ছেলে আলম বাদশা (৫৫) এবং হরেন হালদারের ছেলে ফুলন হালদার (৩২)। তাঁরা সবাই দর্শনা থানার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন আকারের নয়টি বাঁশের লাঠি ও দুটি হাসুয়া জব্দ করে পুলিশ। তবে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আবু সিদ্দীক তখনো পলাতক ছিলেন।
পরে তাঁকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রাখে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করি। পৃথক অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তারের পর ছিনিয়ে নেওয়া মূল আসামি আবু সিদ্দীককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
প্রতিনিধি/ এজে




