একদিকে স্কুল-কলেজ, সরকারি দফতর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের ব্যস্ত সড়ক, অন্যদিকে সেই সড়কের পাশজুড়ে ময়লার স্তূপ। প্রায় ৩০০ মিটারজুড়ে জমে থাকা পচা খাবার, পলিথিন, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ।
দীর্ঘদিনের ময়লায় কোথাও জমেছে নোংরা পানি, আবার কোথাও বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে সড়কের ওপর। ফলে প্রতিদিন এই পথ ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের দাশের জঙ্গল বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে পৌর শহরের বাজার, ক্লিনিক, হোটেল ও রেস্তোরাঁর বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাটি ধীরে ধীরে স্থায়ী ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্জ্য অপসারণের দাবি জানিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সাময়িকভাবে ওই স্থানেই বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের জন্য জায়গা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দাশের জঙ্গল বাজারের পূর্ব পাশে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কাছ থেকে সড়কের উত্তর পাশ ঘেঁষে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নানা ধরনের বর্জ্য। পচা খাবার, শাক-সবজি, মাছ-মুরগির উচ্ছিষ্ট, পলিথিন ও প্লাস্টিকের স্তূপে পুরো এলাকা নোংরা হয়ে আছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা থেকে বের হচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। কোথাও কোথাও বর্জ্যের পাশে জমে আছে নোংরা পানি।
এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন ইদিলপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ইদিলপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি শামসুর রহমান কলেজ, গোসাইরহাট থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন হাজারো মানুষ। ময়লার ভাগাড়ের পাশেই রয়েছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, উপজেলা পোস্ট অফিস এবং শতাধিক বসতবাড়ি।
দুর্গন্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। প্রতিদিন যাত্রীবাহী অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। পথচারীদের অনেককেই ময়লার স্তূপ পার হওয়ার সময় নাক-মুখ ঢেকে চলতে দেখা যায়।
কলেজ শিক্ষার্থী মনিরা আক্তার বলেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। ময়লার দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় নাক-মুখ ঢেকে পথ চলতে হয়। পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এভাবে বর্জ্য ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দ্রুত এর সমাধান করা দরকার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নয়ন দাস বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই সড়কে মানুষের চলাচল থাকে। রাস্তার পাশে ময়লা জমে থাকায় দোকানে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে ক্রেতারাও বিরক্ত হন। দোকানের পেছনেই তার বাড়ি হওয়ায় পরিবারের সদস্যদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত ময়লা অপসারণের দাবি জানান।

পথচারী ও সাবেক সেনাসদস্য মো. সোহেল মাহমুদ তাজ বলেন, রাস্তার পাশে ময়লা জমে থাকায় পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ভাগাড়ের দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিয়ে চলাচল করাও কঠিন। নাক বন্ধ করে দ্রুত এই স্থান পার হতে হয়। পৌরসভার উচিত দ্রুত এখান থেকে বর্জ্য সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করা।
ইদিলপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. বাইজিদ বলেন, বিদ্যালয়ের পাশেই বড় ময়লার ভাগাড় তৈরি হয়েছে। সেখানে পচা শাক-সবজি, ফল, মাছ ও মুরগির উচ্ছিষ্টসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত ছাত্রী এই পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত এই ভাগাড় অপসারণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসান বলেন, পৌরসভার নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। এ কারণে আপাতত ওই স্থানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
তিনি জানান, ডাম্পিং স্টেশনবিহীন পৌরসভাগুলোতে জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। এরই মধ্যে জায়গা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত এ প্রক্রিয়া শেষ করে নির্ধারিত স্থানে পৌরসভার সব বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিনিধি/এএইচ



