বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

শরীয়তপুরে আ.লীগপন্থি ৩ আইনজীবীকে ‘মারধর-চেম্বার ভাঙচুর’

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

শরীয়তপুরে আ.লীগপন্থি ৩ আইনজীবীকে ‘মারধর-চেম্বার ভাঙচুর’
আওয়ামী লীগপন্থি এক আইনজীবী ওপর হামলা। ছবি: ঢাকা মেইল

শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে তিন আইনজীবীকে মারধর এবং একটি চেম্বারে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একটি পক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আদালত চত্বরে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবীরা।

মারধরের শিকার তিন আইনজীবী হলেন— সানোয়ার মল্লিক, শাহীন খান জয় ও তানিয়া সুলতানা। তারা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সিঁড়িতে সানোয়ার মল্লিককে মারধর করা হয়। পরে আইনজীবী সমিতির পাশের একটি ভবনে শাহীন খান জয় ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন নিয়ে কয়েকজন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীর কর্মসূচির প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টার দিকে আদালত চত্বরে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করেন।

সানোয়ার মল্লিকের দাবি, শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দুদিন আগে কয়েকজন আইনজীবী মিলে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় বুধবার বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আদালত চত্বরে মিছিল করেন। 

তার অভিযোগ, মিছিল থেকে বিএনপি নেতা মাহবুব মোর্শেদ ও তার ছেলে মিহির তাকে মারধর করেন। 

সানোয়ার মল্লিক বলেন, হামলাকারীদের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

মিছিল শেষে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক আইনজীবী সমিতির পাশের একটি ভবনে শাহীন খান জয় ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শাহীন খান জয় বলেন, তিনি চেম্বারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ৩০ জন লোক চেম্বারে ঢুকে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মারতে মারতে তাকে চেম্বার থেকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে চেম্বারের ফাইলপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলা হয়। 

তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আইনজীবী তানিয়া সুলতানাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তানিয়া সুলতানা বলেন, বিএনপির ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক তাদের চেম্বারে প্রবেশ করেন। ভয়ে শাহীন খান টয়লেটে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে তাকে মারধর করেন। পরে তাকেও গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর তারা আতঙ্কিত হয়ে বিষয়টি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতিকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিতে হামলাকারীরা হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠন। ওই সংগঠনের নামে কিছু লোক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি করে থাকেন। এর প্রতিবাদে বিএনপি আদালত চত্বরে মিছিল করেছে।

মাহবুব মোর্শেদের ভাষ্য, মিছিল থেকে সংক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কিছু ঘটিয়ে থাকতে পারেন। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি বলতে পারবেন না।

শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল ইসলাম বলেন, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য তারা পেয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকেও ঘটনা জানা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতি বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনা শুনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

ওসি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর