বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

টিকটকার মেয়ের চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন নওশীনের মা

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

টিকটকার মেয়ের চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন নওশীনের মা
ছবির দুই পাশে টিকটকার নওশীন নায়না, মাঝে তার স্বামী সালমাউন

রাজশাহীর টিকটকার মোছা. নওশীন নায়নার মা ফেরদৌসী বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ছোট মেয়ে ও তার জামাইয়ের সাম্প্রতিক বিচ্ছেদ ও মামলার ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

নওশীনের বাসা রাজশাহী নগরীর কুমারপাড়া এলাকায়। এ বছরের ৩১ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের যুবক সালমাউন হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। 

নওশীনের বাবা কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ায় তার বড় ভাই ও দুলাভাই যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন। তবে দুমাস পরই তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। এরপর বিচ্ছেদও হয়ে গেছে তাদের।

নওশীনের অভিযোগ, তার স্বামী সালমাউন তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। বিয়ের তথ্য গোপন করেছেন তিনি। আগে ছয়টি বিয়ে করেছিলেন সালমাউন। যে কারণে তিনি তালাক দিয়েছেন।

নওশীন বলেন, আমি মামলা করেছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাবো। সালমাউন আমার ব্যক্তিগত সময়ের ভিডিও করতে চাইতো, সে প্রতারক। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য এমন চেষ্টা করছিল। আমি ডিভোর্স দেওয়ার পর সে মামলা করেছে এবং আমার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি তার বিচার চাই। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আমার মা আমাকে বিপদে ফেলেছেন। তিনি জোর করে তার হাতে আবারও আমাকে তুলে দিতে চান। কিন্তু তার সঙ্গে সংসার করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে নওশীনের মা ফেরদৌসি বেগম বলেন, সালমাউনের আগের এতগুলো বিয়ের বিষয়ে আমিও জানতাম না। আমি মা নই? আমি জানতে আমার মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিতাম? কেন যে তার খোঁজ নিলাম না আগে? ছেলের কথা শুনে ভাল লেগেছিল তাই বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম। সে বলেছিল, আমি ৫ লাখ টাকা মাসে ইনকাম করি আমার প্রাইভেট কার আছে আপনার মেয়েকে অনেক সুখে রাখবো। এসব কথা শুনে ভাল লাগে। তাই বিয়ে দিয়েছি। আমরা কিছু না বলতেই বিয়ের কাবিন ১০ লাখ টাকা করে ছেলে নিজেই। তাহলে কেউ খারাপ বলবে? কিন্তু মেয়ে আমার ওপর রাগ করে আমার বাসায় আসছে না, ওর বড় বোনের ওখানে আছে। আমাকে ব্লক করে রেখেছে। আমার নামে জিডি করছে। আমি মা না? আমার বুক ফাটে না?

ফেরদৌসি বলেন, আজ এক সপ্তাহ থেকে শরীরটা খুব খারাপ ব্যাটা। আমি চলতে পারছি না। আগে একবার স্ট্রোক করেছিলাম। আবার কখন কী হয়? তোরা আয়, সবাই মিলে বসে সমাধান করি বাসায়। তোরা কোর্টে কেন যাবি? আমার মেয়েকে এক কাপ চা করতে দিইনি কোনোদিন, সেই মেয়ে আজ রাস্তা রাস্তা ঘুরছে আরা কাঁদেছে? আমি মা নাই? আমি থাকতে ও এভাবে কষ্ট পাবে কেন? ছেলেও আসুক। আমরা সবাইকে নিয়ে বসে সমাধান করি। ছেলে তো ভুল করেছে। ও তো আগে বলেনি বিয়ের কথা। জানাজানি হওয়ার পর তিনটা বিয়ের কথা স্বীকার করেছে সালমাউন। ওগুলা ডিভোর্স হয়েছে। সে তো আমার মেয়েকে নিয়ে থাকতে চাচ্ছে। আমার অনুরোধ, ওরা সবাই আসুক। আমার কোলের মেয়ে নওশীন আমার কাছে একবার আসুক। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে ব্যাটা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সালমাউন হোসেন মুঠোফোনে বলেন, মিথ্যা অভিযোগ করেছে নওশীন। আমি তাকে নিয়ে থাকতে চাই। এসব ঘটনায় আমি ডকুমেন্টসহ সরাসরি আপনাদের সঙ্গে কথা বলব। 

এ ব্যাপারে আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সিরাজুর রহমান বলেন, ওদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর