বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

পিরোজপুরে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির পর ফেরত, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

পিরোজপুরে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির পর ফেরত, প্রধান শিক্ষককে শোকজ
দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: ঢাকা মেইল

পিরোজপুরের নেছারাবাদে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের উধাও ৩০ প্যাকেট দুধের ২৭ প্যাকেট ফেরত দিয়ে গেলেন অভিযুক্ত মো. নাদিম ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ওই যুবকসহ অভিযুক্ত অন্য বন্ধুরা দুধগুলো ফেরত দিয়ে যান।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, তারা ৩০ প্যাকেট নিয়ে তিন বন্ধু ৩ প্যাকেট খেয়েছে। বাকি দুধ ভাগবাটোয়ারা করে বাসায় নিয়ে যায়। পরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে সেই দুধ ফেরত দিয়ে গেছে। 

এদিকে গত শুক্রবার বিদ্যালয় থেকে বাচচ্চাদের দুধ চুরি হলেও বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে অবগত না করার কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। 

নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শোকজে প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে তিন কর্মদিবসের মধ্য লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। ১৪৮নং দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ ঘটনা নিয়ে দুধ তুলকলাম চলছে।

অভিযুক্তরা হলেন, স্থানীয় ‘বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাব’-এর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নাদিম মাহমুদ ও তার দুই বন্ধু। 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আশা বলেন, গত শুক্রবার বিদ্যালয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আসেন। তাদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা শিশুদের স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

তার দাবি, নাদিমসহ স্থানীয় তিন যুবক ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যান। পরে গত মঙ্গলবার দুধ চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। বুধবার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নাদিম ও তার সহযোগীরা এসে চুরিকৃত ৩০ প্যাকেট দুধের ২৭ প্যাকেট ফেরত দিয়ে গেছে। বাকি ৩ প্যাকেট দুধ তারা খেয়ে ফেলেছে।

তবে অভিযুক্ত নাদিম বলেন, আমিসহ তিন বন্ধু স্কুল থেকে তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছি। এখন শুনছি ৩০ প্যাকেট চুরি হয়েছে। আমরা খবরটি জানতে পেরে বুধবার সকালে স্কুলে এসে বাকি ২৭ প্যাকেট স্কুল থেকে খুঁজে বের করে দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিন্নায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিদ্যালয়ে আসায় অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করতে স্কুল খুলে দেওয়া হয়। শিক্ষকরা তাদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। এই সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নাদিম ও তার দুই বন্ধু গোপনে নিয়ে যায়। বুধবার সকালে ২৭ প্যাকেট দুধ তারা ফেরত দিয়ে গেছে। মাঝখান থেকে আমাকে শোকজ খেতে হলো।

নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার। অথচ এই কয়দিনে আমাদের অফিসে বিষয়টি জানানো হয়নি। এ কারণে প্রধান শিক্ষককে একটি শোকজ করা হয়েছে এবং চুরির দুধ ফেরত দিয়ে গেছে অভিযুক্তরা।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর