অনিয়ম ও টেন্ডার (দরপত্র) বাণিজ্যের অভিযোগে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সরোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে দুদকের চার সদস্যের একটি দল এ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন নথি-পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগও যাচাই করেন দুদক কর্মকর্তারা। এসময় দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মামুনুর রশিদসহ দুদকের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সরোয়ার হোসেন বলেন, রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ ও কার্যাদেশ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানের অংশ হিসেবে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এসে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ছিল, টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদারকে কার্যাদেশ না দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয়বার একটি টেন্ডার আহ্বান করা হলেও অংশগ্রহণকারী দরদাতাদের কাজ না দিয়ে পুনরায় রি-টেন্ডার করা হয়েছে এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, অভিযোগেরভিত্তিতে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রাথমিকভাবে কিছু রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে রেকর্ডপত্র দিতে কার্যালয়ের পক্ষ থেকে গড়িমসি ও কালক্ষেপণ করা হয়েছে। এরপরও প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় কিছু নথি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে; এমন কয়েকটি প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। প্রকল্পগুলো যাচাই করা হবে। এছাড়া আরও যেসব রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে, সেগুলো পাওয়ার পর বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া বলেন, ‘উনারা তাৎক্ষণিকভাবে যেসব কাগজপত্র চেয়েছেন, আমাদের কাছে থাকা সেগুলো আমরা সরবরাহ করেছি। পরবর্তীতে একটি প্রকল্পের বিষয়ে আরও কিছু কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। সেগুলোও আমরা ধাপে-ধাপে দিচ্ছি। আশা করছি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পর উনাদের যেসব প্রশ্ন বা পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলোর উত্তর তারা পেয়ে যাবেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে কোনো ভুল বুঝাবুঝি থাকবে না বলে আমরা আশা করছি।’
এর আগেও, ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট '৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি সরবরাহ প্রকল্প' বাস্তবায়নে অনিয়মসহ নানান অভিযোগে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান চালায় দুদক।
প্রতিনিধি/এলএ




