এক বছরের দায়িত্বকালে জলবায়ু ও পরিবেশ, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা, কৃষি ও জনসেবায় নানা উদ্যোগের ছাপ রেখে পটুয়াখালী থেকে বিদায় নিচ্ছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। পদোন্নতি পেয়ে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে পটুয়াখালীর নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থ বিভাগের উপসচিব চৌধুরী আশরাফুল করিম।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়নের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চৌধুরী আশরাফুল করিম এতদিন অর্থ বিভাগের উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন দায়িত্বে তিনি পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পান। এবার তাকে একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে পদায়ন করা হলো।
দায়িত্বকালে পটুয়াখালীতে জলবায়ু ও পরিবেশকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম গুরুত্ব পায়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। জুন মাসে সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় পটুয়াখালীতে বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি অংশ নেন।
একই সময়ে জেলা শহরের সার্কিট হাউসসংলগ্ন এলাকা ও কুয়াকাটায় মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বন সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কৃষি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায়ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। এর মধ্যে কালাপাড়ায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে চারা, সবজির বীজ, সার, বালাইনাশক ও বাঁশের খুঁটি বিতরণসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম ছিলো প্রশংসনীয়।
এছাড়াও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদে ও রাজস্ব প্রশাসনে জনবল নিয়োগে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রেখে আলোচনায় ছিলেন ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
শিক্ষাক্ষেত্রেও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, চরিত্র গঠন ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সভাপতি হিসেবে ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও চরিত্র গঠনে গুরুত্ব দিয়েছেন। ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানটি পটুয়াখালী জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছিলেন ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী। জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেবাগ্রহীতারা যাতে সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে সরকারি সেবা পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।
উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর জলবায়ু ঝুঁকি, নদীভাঙন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, শিক্ষা, পরিবেশ ও জনসেবার বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্বকালে জেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে ড. শহীদ হোসেন চৌধুরীর সম্পৃক্ততা ছিল। এক বছরের দায়িত্ব শেষে পদোন্নতি নিয়ে তাঁর বিদায়কে জেলার প্রশাসনিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিমের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনে নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হবে। তাঁর নেতৃত্বে উপকূলীয় এ জেলার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, নদীভাঙন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, শিক্ষা, পর্যটন এবং জনসেবার চলমান কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।
প্রতিনিধি/ এজে




