কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা হোটেল-মোটেল জোনের কলাতলী মোড়ে উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ থাকা একটি বাতিলকৃত সরকারি প্লটে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী একটি চক্র সেখানে গোপনে দোকান নির্মাণ করছে এবং উচ্চ ‘সালামি’র বিনিময়ে দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাসাদ প্যারাডাইসের মালিক ইউসুফ আবদুল্লার নামে বরাদ্দকৃত বি.এস. খতিয়ান নং-০১-এর ৩০ নম্বর প্লটটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্লটের ওপর উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ থাকলেও সেখানে মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণস্থলের চারপাশে উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বেড়ার আড়ালে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক নির্মাণকাজ করছিলেন। তবে শ্রমিকরা কার নির্দেশে কাজ করছেন, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলে জানান।

স্থানীয়দের দাবি, পাশের বৈশাখী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে। নির্মাণাধীন দোকানগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে উচ্চ ‘সালামি’র বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগেও একই প্লটে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বৈশাখী হোটেলসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকানও উচ্চ অঙ্কের ‘সালামি’র বিনিময়ে ভাড়া বা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম বলেন, আমি বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।
পরে এ ব্যাপারে জানতে বারবার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করাই কামরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে থাকলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি বাতিলকৃত প্লট দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বিষয়টিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মশিয়ুর রহমান বলেন, বাতিলকৃত সরকারি প্লট হলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি আগে জানতাম না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যতই প্রভাবশালী হোক, সরকারি জায়গা দখল করতে দেওয়া হবে না।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আ. মান্নান বলেন, বিষয়টি জেনেছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/টিবি




