মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে নড়াইলের ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

মো. হাবিবুর রহমান, নড়াইল
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে নড়াইলের ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
পেড়লি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, কালিয়া, নড়াইল। ছবি: ঢাকা মেইল

অবহেলিত অঞ্চলের মা ও শিশুদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এখন জনবল সংকটে পুরোপুরি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উদ্বোধনের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও কালিয়া উপজেলার পেড়লি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি জনবল সংকটে অবহেলা ও অযত্নে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দৃষ্টিনন্দন ভবন থাকলেও সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা। ফলে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র গর্ভবতী নারী ও শিশুরা চিকিৎসাসেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া বাজারের পাশে ৫০ শতক জমির ওপর মনোরম পরিবেশে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সরকারের ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে দুটি বিশাল তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে একটি মূল হাসপাতাল ভবন এবং আরেকটি চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য আবাসিক কোয়ার্টার।

এখানে গ্রামীণ মা ও শিশুদের ভর্তি রেখে সেবা দেওয়ার জন্য পাঁচ শয্যা করে মোট ১০ শয্যার দুটি অত্যাধুনিক ওয়ার্ড এবং ১০টি পৃথক কেবিন রয়েছে। এমনকি জটিল ও জরুরি প্রসবকালীন সেবার জন্য এখানে একটি আধুনিক অস্ত্রোপচার কক্ষও (ওটি) প্রস্তুত করা হয়েছিল।

১০ পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১ জন, তাও খণ্ডকালীন। জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল রাখার জন্য সরকারিভাবে মোট ১০টি পদ অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসা কর্মকর্তা (ডাক্তার), একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), একজন ফার্মাসিস্ট, চারজন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি), একজন অফিস সহকারী এবং একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা।

বাস্তব চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। ১০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে এখানে মাত্র একজন ফার্মাসিস্ট ছাড়া আর কোনো জনবল নেই। কোনো ডাক্তার বা নার্স না থাকায় ৪ কোটি টাকার আধুনিক ওটি ও ওয়ার্ডগুলো ধুলোবালি জমে নষ্ট হচ্ছে।

ফার্মাসিস্ট শাহরিয়ার মোল্যা বলেন, আমি এখানে ফার্মাসিস্ট পদে নিয়োগ পেলেও আরও তিনটি স্থানে দায়িত্ব পালন করছি। তাই সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এখানে আসতে পারি। সেবাকেন্দ্রটিতে সেবাগ্রহীতা অনেক বেশি। সে হিসেবে সেবাদাতা খুবই কম। যে পরিমাণ জনবল থাকার কথা, সে পরিমাণ জনবল না থাকায় নিয়মিত হাসপাতালটি খোলা যাচ্ছে না। 

খড়রিয়া বাজার ও পেড়লি এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালটি হওয়ার পর তারা ভেবেছিলেন- এখন আর সামান্য কারণে নড়াইল সদর বা খুলনা দৌড়াতে হবে না। কিন্তু ডাক্তার-নার্স না থাকায় কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, আর এলাকার গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন সেবার জন্য এখনো ঝুঁকি নিয়ে শহরে যেতে হচ্ছে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আলিফ নূর বলেন, নড়াইলে আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। অনুমোদিত জনবলের তিন ভাগের দুই ভাগ পদই এখানে শূন্য। মন্ত্রণালয় সারাদেশে শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি, অচিরেই এসব শূন্য পদ পূরণ হবে। জনবল নিয়োগ হলে আমরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারব।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর