সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য কেক রেখে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটির বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা শহরের টিএ রোডের ফকিরাপুল এলাকায় একটি কেক রেখে যাওয়ার দৃশ্য ভিডিওতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানার ওসির জন্য কেক পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশার কথাও বলতে শোনা যায় তাকে। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহত পুলিশ সদস্যদের হত্যার বিচার এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়েও বক্তব্য দেওয়া হয়।
ভিডিওতে সদর মডেল থানার ওসিকে তার সহকর্মী এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেকটি ভাগাভাগি করে খাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কেকটির ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন শেখ হাসিনা’ এবং ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওসির জন্য’। কেকটিতে জাতীয় পতাকার ছবিও আঁকা ছিল।
একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমান ওসি খাইরুল আলম যোগদানের পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন বেড়েছে। এ কারণেই কেক রেখে যাওয়ার মাধ্যমে ওসিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী বলেন, ‘বাস্তবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এই শহরে কোনো অস্তিত্ব কিংবা ভিত্তি নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করার উদ্দেশে তারা এসব করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা তাদের বিষয়ে সতর্ক ও সোচ্চার রয়েছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি খাইরুল আলম বলেন, ‘কেক রেখে যাওয়ার ঘটনার বাস্তবে কোনো ভিত্তি নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশে এ ধরনের ভুয়া তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে।’
প্রতিনিধি/এসএস




