সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

রংপুরে ১১৫ সরকারি অফিসের ১০১টির ওয়েবসাইট পুরোপুরি হালনাগাদ নয়

জেলা প্রতিনিধি, রংপুর
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

রংপুরে ১১৫ সরকারি অফিসের ১০১টির ওয়েবসাইট পুরোপুরি হালনাগাদ নয়

রংপুরে জেলা তথ্য বাতায়নের অন্তর্ভুক্ত ১১৫টি সরকারি অফিসের মধ্যে মাত্র ১৪টির ওয়েবসাইটে শতভাগ তথ্য হালনাগাদ রয়েছে। বাকি ১০১টি অফিসের ওয়েবসাইটে শতভাগ তথ্য হালনাগাদ নেই।

এর মধ্যে ৩৩টি অফিসের ওয়েবসাইটে ৮৬ শতাংশ তথ্য হালনাগাদ, ৩২টিতে ৭১ শতাংশ, ২২টিতে ৫৭ শতাংশ, ১২টিতে ৫০ শতাংশ এবং তিনটি অফিসের ওয়েবসাইটে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) রংপুর কার্যালয়ের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আলমগীর কবির তথ্য অধিকার আইন এবং জেলার সরকারি অফিসগুলোর ওয়েবসাইট হালনাগাদের চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার ১১৫টি সরকারি অফিসের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় নোটিশ বোর্ড, অফিস প্রধানের তথ্য, সিটিজেন চার্টার, যোগাযোগ, খবর, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা (ডিও)–সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ওয়েবসাইটে নোটিশ বোর্ড হালনাগাদের হার ছিল ৬৮ শতাংশ, যা এ বছর কমে ৫১ শতাংশ হয়েছে। খবরের তথ্য হালনাগাদের হার ২২ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১৭ শতাংশ। অফিস প্রধানের তথ্যের হার ১৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০৮ শতাংশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য গত বছরের মতো ১০৯ শতাংশ রয়েছে। সিটিজেন চার্টার ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০১ শতাংশ। তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার তথ্য ১৯ শতাংশ বেড়ে ৭৮ শতাংশ এবং যোগাযোগের তথ্য ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০২ শতাংশ হয়েছে।

আরও পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার

পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, অনেক কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট অফিসের ওয়েবসাইটে তাদের পুরোনো তথ্য রয়ে গেছে। অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকায় ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানাও উল্লেখ নেই।

আলমগীর কবির বলেন, সরকারি সেবাখাতে অবাধ তথ্যপ্রবাহ, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। তথ্যের ঘাটতি ও অনিয়ম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে ওয়েবসাইট হালনাগাদ নিশ্চিত করার জন্য টিআইবি ১১৫টি সরকারি অফিসের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করেছে। পর্যবেক্ষণে পাওয়া তথ্য জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এতে জনসাধারণের তথ্য জানার অধিকার আরও সহজ হবে এবং দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়বে।

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, রাষ্ট্র বা সমাজের একক সমস্যা নয়। বাংলাদেশেও অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা নতুন নয়। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজলভ্যতা ও অপব্যবহারের কারণে অপতথ্যের বিস্তার আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বস্তুনিষ্ঠ, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি ও কৌশল প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলম, আঞ্চলিক তথ্য অফিস রংপুরের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. শাহজাহান আলী, সনাক রংপুরের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট দিলরুবা জামান, সিদ্দিকুর রহমান এবং রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক।

আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে রংপুর জেলা প্রশাসন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর