শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ইতিহাসের সাক্ষী খনিয়াদিঘী মসজিদ: সুলতানি আমলের এক অমূল্য স্থাপত্য

মো. ফারুক হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

ইতিহাসের সাক্ষী খনিয়াদিঘী মসজিদ: সুলতানি আমলের এক অমূল্য স্থাপত্য
‘খনিয়াদিঘী মসজিদ’-এর বাইরের ও ভেতরের ছবি। ছবি: ঢাকা মেইল

ইতিহাস ও প্রাচীন প্রত্নসম্পদের উর্বর ভূমি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মধ্যযুগীয় বাংলার প্রাচীন রাজধানী গৌড়ের অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। বিশ্বখ্যাত ছোট সোনামসজিদের অতি নিকটেই এমনই এক ঐতিহ্যবাহী ও অপূর্ব প্রত্নস্থাপত্য— ‘খনিয়াদিঘী মসজিদ’।

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৫শ শতকের শেষভাগে (আনুমানিক ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দে) সুলতানি আমলে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। এটি প্রাচীন গৌড় নগরীর অন্যতম উল্লেখযোগ্য ও দর্শনীয় নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। স্থানীয় জনশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হয়, রাজপরিবারের কোনো এক ‘রাজবিবি’ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

ইতিহাসের পাতায় এটি খনিয়াদিঘী মসজিদ হিসেবে পরিচিত হলেও স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। রাজবিবির স্মৃতির সূত্রে এটি অনেকের কাছে ‘রাজবিবি মসজিদ’ নামে ডাকা হয়। 

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার কারণে এখানে বহু চামচিকার আবাসন গড়ে উঠেছিল, ফলে স্থানীয়ভাবে এটি ‘চামচিকা মসজিদ’ নামেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলায় এই প্রাচীন মসজিদটির অবস্থান। বিখ্যাত ছোট সোনামসজিদ ও বলিহার দিঘীর কাছাকাছি খনিয়াদিঘীর তীরে শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে আজও ঐতিহ্য বহন করে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন এই স্থাপনাটি।

সুলতানি স্থাপত্যরীতির এক অনন্য উদাহরণ এই খনিয়াদিঘী বা রাজবিবি মসজিদ। পোড়ামাটির চমৎকার নকশা, শক্ত ইটের গাঁথুনি এবং মধ্যযুগীয় কারুকাজ মসজিদটিকে করে তুলেছে দর্শনীয়। চতুষ্কোণ আকৃতির এই মসজিদের ওপর রয়েছে বিশাল একটি গম্বুজ এবং এর সম্মুখভাগে তিন খিলানবিশিষ্ট বারান্দা বা অলিন্দ রয়েছে, যার ওপর ছোট ছোট আরও কয়েকটি গম্বুজ শোভা পায়। কালের আবর্তে এর বাইরের দেয়ালের অলংকরণ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর প্রাচীন জাঁকজমক আজও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

ছোট সোনামসজিদ দেখতে আসা ভ্রমণপিপাসু ও ইতিহাসপ্রেমী পর্যটকদের জন্য খনিয়াদিঘী মসজিদ এক বিশেষ আকর্ষণ। ইতিহাস গবেষক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থী— সবার কাছেই এটি মধ্যযুগীয় বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও স্থাপত্যকলার এক জীবন্ত দলিল। সঠিক যত্ন ও যথাযথ প্রচারের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক এই রত্নটি দেশের অন্যতম প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর