দেশকে অস্থিতিশীল করতে ‘গুপ্ত ও সুপ্ত শক্তি’ এক হয়ে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। এই সরকার ভোট ডাকাতি বা ডামি নির্বাচনের সরকার নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। দেশের মানুষই তাদের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।’
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সারাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়ন বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘যারা মুখে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার কথা বলে, তারা গোপনে রাজাকারদের সঙ্গে আঁতাত করে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।’
মাদক প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সরকার কাজ শুরু করেছে। দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। আগামীতে আরও কঠোরভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের অন্যতম কারণ তেল পাচার রোধ জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে।’
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দামের বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে পাচার বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কেটে গেলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও আবার মূল্য সমন্বয় করা হবে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগের তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম কমানো হতে পারে।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সদস্য কাজী আযম, সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আনজারুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুল ইসলাম মিঠু ও ইদ্রিস আলী।
সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি হাসিনা ইউসুফ, সিনিয়র সহসভাপতি শেলিনা পারভীন শেলী, সদর উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক নাসু, সদস্যসচিব মহাসিন আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান বিপ্লব, হৈবতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, কাশিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আয়ূব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু তালেব, রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান মাসুদ, আবুল কালাম আজাদ, যুবদলের সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান তপন এবং ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান।
প্রতিনিধি/এমআর




