বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

অবৈধ নিয়োগে সরকারি কলেজের প্রভাষক হওয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ এএম

শেয়ার করুন:

অবৈধ নিয়োগে সরকারি কলেজের প্রভাষক হওয়ার অভিযোগ
মোহাম্মদ আবু সায়েম

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েমের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি। জেলা প্রশাসক, শিক্ষা সচিব ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে গত ১১ সেপ্টেম্বর এসব অভিযোগ দেওয়া হয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগকারী তার লিখিত অভিযোগে নিজের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক উল্লেখ করলেও পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি একজন প্রভাষক।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, মোহাম্মদ আবু সায়েম ২০০৭ সালে জেলার মদন উপজেলার হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজে দর্শন বিভাগের প্রভাষক পদে বেসরকারিভাবে নিয়োগ পান। ওই নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি; শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। মৌখিক পরীক্ষায় দর্শন বিভাগে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন আবু সায়েম। পরে তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, একটি পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত না থাকলে বাছাই প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক হয় না। ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি পদের বিপরীতে একজন প্রার্থী উপস্থিত হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক বাছাইয়ের শর্ত পূরণ হয়নি। এতে বিধি অনুযায়ী আবু সায়েমের নিয়োগ বৈধ হয়নি। পরে ২০১৩ সালে কলেজটি জাতীয়করণ হলে আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ করা হয়নি। পরে আবু সায়েম নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি হয়ে যান। সম্প্রতি তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজে বদলি হয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি নিয়োগটি যদি বিধিসম্মত না হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি নিয়োগের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে তার বেসরকারি ও সরকারি নিয়োগের বৈধতা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হক বলেন, ২০০৭ সালে মোহাম্মদ আবু সায়েমসহ দুজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওই নিয়োগ বোর্ডে আমি ছিলাম এবং তৎকালীন নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন ডিজির (মহাপরিচালক) প্রতিনিধি হিসেবে। ওই সময় প্রত্যেক পদের বিপরীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরীক্ষায় তারা উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

নিয়োগ পরীক্ষার শিট, অভিযোগকপি
নিয়োগ পরীক্ষার শিট, অভিযোগকপি

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দেন প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েম। তিনি বলেন, দুটি পদের বিপরীতে ১৩ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এরমধ্যে ১১ জনই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে দুটি পদের বিপরীতে আমি ও অপর একজন উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করি। যদিও প্রতি পদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থী থাকার কথা। তবে মাউশি মহাপরিচালকের থেকে অনুমোদন করিয়ে এনে পরে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তাই নিয়মের কোনো হেরফের হয়নি। প্রতিহিংসা থেকে পরিচিত একজন এমন অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। দ্রুতই অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বলব।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর