বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

চাঁদাবাজির মামলার পর এবার মাসুদের বিরোধ তদন্তে কমিটি

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

চাঁদাবাজির মামলার পর এবার মাসুদের বিরোধ তদন্তে কমিটি
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ

ফেনীতে সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে দুই মামলা হওয়ার পর এবার তার সঙ্গে ঠিকাদার ও জেলা বিএনপির সদস্য সাইফুর রহমান রতনের বিরোধ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপি আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ চিঠি প্রকাশ্যে আসে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেনীতে একটি সড়ক উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপি সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ ও সাইফুর রহমান রতনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য ও বিবৃতি দেওয়ায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিষয়টি ‘কাম্য নয়’ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এ অবস্থায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- জেলা বিএনপি সদস্য অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী ও কফিল উদ্দিন মামুন। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটি সড়ক উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে কামরুল হাসান মাসুদ ও সাইফুর রহমান রতনের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য-বিবৃতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

এর আগে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়ায় সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন ও এনায়েত উল্যাহ স্বপন। ২০ সেপ্টেম্বর করা মামলা দুটি আমলে নিয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. আবু জাহের বাদল ফেনী মডেল থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। 

মামলার অভিযোগে রতন বলেন, ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুর-ধলিয়া এলাকায় তার দুটি সড়কের নির্মাণকাজ চলছিল। প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকার ওই দুটি কাজের বিপরীতে ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া চরহুজুরী সড়কের সংস্কারকাজ শেষে কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও করেন রতন। অন্য মামলার বাদী এনায়েত উল্যাহ স্বপনও বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের জন্য চাঁদা দাবি ও তাকে মারধরের অভিযোগ করেন। ঠিকাদারি কাজের সিডিউলকে কেন্দ্র করে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিনের সঙ্গে মাসুদের বিরোধের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুল হাসান মাসুদ। তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করেছেন। 

মাসুদ বলেন, এনায়েত উল্যাহ স্বপনের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির কাছে জায়গা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। সেটি তদন্তে তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই স্বপন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর