নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সামনের ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের কাজ শুরু না হওয়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সওজ কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চায়। এ সময় কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ৯ আগস্ট দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় ববি শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নিহত হন। এরপর সড়ক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন। ওই সময় নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন, গর্ত হলে বিটুমিন দিয়ে সংস্কার, ১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাই করা হবে। পাশাপাশি সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর একবার গর্ত সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি। মঙ্গলবার সরেজমিনে দপদপিয়া সেতু থেকে ববি সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গর্ত দেখা গেছে। বিশেষ করে সেতুর ওপর বড় গর্ত থাকায় যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রায় দিনই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী রাজীব বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজের কোনো অগ্রগতি না থাকায় তারা বিষয়টি জানাতে সওজ কার্যালয়ে এসেছেন। আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সড়কের গর্তে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সংস্কারসহ ফুটপাত, আরসিসি ঢালাই ও আলোর ব্যবস্থা চান তারা।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কারের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে। এ বরাদ্দে ববির সামনের দপদপিয়া সেতুর ঢাল থেকে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার মহাসড়ক সংস্কার করা হবে। এছাড়াও ৪০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে ববির সামনের পানি অপসারণের জন্য। এ কাজ চলতি বর্ষা মৌসুম শেষে শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাত, আরসিসি রোড ও সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করতে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে নতুন দরপত্র আহ্বান করে এসব কাজ করা হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়।




