নির্মাণ কাজ শেষ হবার পরপরই ধসে পড়েছে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকার সড়কের কয়েকটি স্থানে। একইসঙ্গে ওই মহাসড়কের বেশ কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে এসব অংশের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন।
এই অংশে শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার ফোরলেনের কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে নাটোর অংশে ৩১ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ব্যয় ধরা হয় ৩৯৫ কোটি টাকা।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার নাটোর হয়ে এ মহাসড়ক দিয়ে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সড়কটি।
তবে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। ফলে সড়কের মূল অংশের পাশের জায়গা ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
সড়ক নির্মাণের পরপরই এ ধরনের ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সড়ক ধসের প্রকৃত কারণ এবং নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথ বিভাগের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের একাধিক স্থানে সড়কের কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রায় ১৫টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব জায়গায় বালুর বস্তা দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের পোল উল্টে পড়ে আছে। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কার না করা হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, ২০২০ সালের জুনে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের প্রস্থ ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। দ্বিতীয় দফায় কাজের মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। দুই জেলায় ৬২ কিলোমিটার মহাসড়কের প্রশস্তকরণে প্রকল্প প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭০৫ কোটি টাকা। নাটোরে ৩১ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণে প্রকল্প ব্যয় ৩৯৫ কোটি টাকা ও বগুড়া অংশে ৩১০ কোটি টাকা ধরা হয়।
৭০৫ কোটির ব্যয়ের সঙ্গে আরও ৪০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪৫ কোটি টাকা করা হয়। নাটোর শহর থেকে শেরকোল পর্যন্ত ১৫০ টাকা টাকা ধরা হয়। শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ফোরলেন কাজ শেষ হলেও নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় দুটি ব্রিজের কাজসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। ৮ প্যাকেজে সাজানো হয়েছে কাজগুলো। রাস্তার দুই ধারে মাটি ফেলানো, সড়ক প্রশস্থ, ব্রীজ নির্মাণ- এসব প্যাকেজে ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মীর হাবিবুল আলমকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম জানান, নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছি অল্প কিছুদিন হয়েছে। মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এএইচ




