দিনাজপুর সদরের জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। এসময় অভিযুক্ত রিপন টুডুর বাড়ি ভাঙচুর ও বাড়ির মালামালে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধরা।
রোববার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের নশিপুর জামতলী বাজার সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিকেল ৪টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও কোতয়ালী থানা পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
নশিপুর গ্রামের জমসেদ আলীর কন্যা জিন্নাতুন (১৯)-এর সাথে ওই এলাকার মৃত নেপাল টুডুর ছেলে রিপন টুডুর (৩৫) পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। জিন্নাতুনের ইতিপূর্বে অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল এবং সেখানে তালাক হয়। তার রাকিবা আক্তার রুহি নামে ৪ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ৬ মাস পূর্বে থেকে রিপনের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন জিন্নাতুন।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় রোববার দুপুর ১২টায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রিপন টুডুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় তার মোটরসাইকেলটি নশিপুর জামতলী বাজারে মহাসড়কে এনে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে রাস্তার দুই প্রান্তে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হলেও তারা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। তদন্তের কথা বলা হলেও এখনো মামলা হয়নি এবং ঘটনায় নাম উল্লেখ করা ১ নম্বর আসামিসহ কাউকে আটক করা হয়নি। তাদের দাবি, কোনো প্রভাব বা ক্ষমতার কারণে যেন তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত না হয়।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
বিকেল ৪টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও পুলিশ ২৪ ঘণ্টার পর আসামিকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।
কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান জানান, কয়েকদিন আগে জিন্নাতুন কোতয়ালি থানায় অভিযোগ করেছিলেন। আমরা অভিযোগটি হাতে পেয়েই তদন্ত শুরু করেছি।
প্রতিনিধি/এলএ




