ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বাড়ির সামনের পুকুর থেকে শাকিব মিয়া (২৩) নামে এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাঁতার জানা ওই যুবকের অল্প পানিতে লাশ পাওয়ায় তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রামগোপালপুর বাজারসংলগ্ন ঠাকুরবাড়ি পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
শাকিব রামগোপালপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। পড়াশোনা ছেড়ে তিনি বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে প্রতিদিনের মতো খাওয়াদাওয়া শেষে নিজের ঘরে ঘুমাতে যান শাকিব। রোববার সকালে সড়কসংলগ্ন বাড়ির সামনের পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে প্রথমে লাশটি কার, তা শনাক্ত করা যায়নি।
সকাল ৯টার দিকে শাকিবকে ঘরে না পেয়ে তার বাবা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরপাড়ে গিয়ে পরিবারের লোকজন লাশটি শাকিবের বলে শনাক্ত করেন।
শাকিবের চাচা ও রামগোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী শিবুল মিয়া বলেন, তার ভাতিজা সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন এবং ভালো সাঁতার জানতেন। পুকুরের যে স্থানে লাশটি পাওয়া গেছে, সেখানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ছিল। তাদের পরিবারের সঙ্গে কারও পূর্বশত্রুতা কিংবা জমিজমা নিয়ে বিরোধ নেই বলেও জানান তিনি। সাঁতার জানা একজন সুস্থ যুবকের এভাবে লাশ পাওয়ার বিষয়টি পরিবারের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
এদিকে পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে লাশ উদ্ধারের পর স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের ভিড়ের মধ্যে শাকিবের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তার ঘরে পাওয়া যায়নি। তবে ভিড়ের মধ্যে সেটি কোথাও পড়ে যেতে বা হারিয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন তারা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাকিবের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তারা সন্দিহান। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




