চর্যাপদ অ্যাকাডেমির আয়োজনে সাহিত্য উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরস্থ সাংবাদিক ক্লাবের রেডরোজ হলে ফিতা কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক, বরেণ্য নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা।
তিনি বলেন, দোনাগাজীকে থিয়েটারে আনা যায় কিনা সেটা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, দোনাগাজীকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধারার উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক, দেশবরেণ্য কবি নাসির আহমেদ।
তিনি বলেন, চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত পুরস্কারগুলো সম্পর্কে আমি অনেক আগে থেকেই অবগত। এই পুরস্কারের সুনাম আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি, এ পুরস্কার এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি চার বার স্ট্রোক করেছি। যার ফলে ঢাকার বাইরের কোনো অনুষ্ঠানে যেতে চাই না। কিন্তু চর্যাপদ সাহিত্য অ্যাকাডেমির কথা শোনার পর না এসে থাকতে পারলাম না।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ, জলধি সম্পাদক কথাসাহিত্যিক নাহিদা আশরাফী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান এবং ইয়ুথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর আলেয়া বেগম লাকী, কবি আসাদুল্লা কাহাফ।
সাহিত্য উৎসবে দেশের ৭ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয় চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত দোনাগাজী পদক ২০২৫ ও ২০২৬।
২০২৫-এ কবিতায় সোহরাব পাশা, কথাসাহিত্যে ইশরাত তানিয়া, শিশুসাহিত্যে স. ম. শামসুল আলম, সংগীতে রনক রায়হান; ২০২৬-এ কবিতায় শিবলী মোকতাদির, চারুকলায় অমল সেনগুপ্ত এবং লোক-গবেষণায় সৈয়দা আঁখি হক পান দোনাগাজী পদক।
অ্যাকাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে, মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি ও জুড়ি বোর্ডের সদস্য সচিব শিউলী মজুমদারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব দিলীপ ঘোষ।
প্রশংসাপত্র পাঠ করেন জয়ন্তী ভৌমিক, কামরুন্নাহার বিউটি, দুখাই মুহাম্মাদ, মিজানুর রহমান স্বপন, রাসেল ইব্রাহীম ও ফেরারি প্রিন্স।
কবিতা আবৃত্তি করেন কবিতা বাচিকশিল্পী আবু বকর সিদ্দিক, দিপান্বিতা দাস ও মৃন্ময়ী মজুমদার।
বেলাল শেখের বাঁশি ও বাচিক শিল্পীদের আবৃত্তিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিত এ পদক দেওয়া হচ্ছে। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চাঁদপুর শহর। অনুষ্ঠানে লেখক, শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকষর্ণ করে তিনি বলেন, মধ্যযুগের কবি দোনাগাজী ছিলেন চাঁদপুরের কৃতীসন্তান। তাঁর নামে চাঁদপুরে স্থাপনা নির্মাণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে দোনাগাজীর স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে দোনাগাজীর বংশধর নাসিমা খাতুন লাকী, অন্যান্যের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং উদ্যাপন পরিষদের সমন্বয়ক আইরিন সুলতানা লিমার তত্ত্বাবধানে একটি চমৎকার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধি/ এজে




