ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার চারআনিপাড়া মহল্লায় দীর্ঘদিন ধরে সেলাইবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা গভীর ড্রেনে পড়ে প্রান্ত মিয়া নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বাড়ির সামনে থাকা সেলাইবিহীন ড্রেনে পড়ে যায় প্রান্ত। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বাড়িতে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে তাকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত প্রান্ত মিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় সে অকৃতকার্য হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে জাইকা নামের একটি উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ চারআনিপাড়া মহল্লার সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। তবে ড্রেনের ওপর স্লাব বা ঢাকনা না দিয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শেষ করে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে ড্রেনটি একই অবস্থায় পড়ে থাকায় লতাপাতা, আগাছা ও স্থানীয়দের মৌসুমি সবজির চারা দিয়ে ঢেকে গেছে। এতে ড্রেনটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি,গত আট বছরে ওই ড্রেনে পড়ে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। স্কুলছাত্র প্রান্ত মিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ড্রেন নির্মাণে অবহেলার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং দ্রুত ড্রেনে স্লাব বসানোর দাবি জানিয়েছেন। একমাত্র ছেলে প্রান্ত মিয়ার মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা রবি মিয়া। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এই ড্রেনই আমার বাজানরে খেয়েছে। সরকারি লোকজন এইডা ঠিক না করলে আরো অনেককে খাব।’
এ বিষয়ে নান্দাইল পৌরসভার প্রকৌশলী উত্তম কুমার দাস জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে খুব দ্রুত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/ এজে




