‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করলে আজ আমাদের লংমার্চ করার প্রয়োজন হতো না’ সরকারের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বগুড়া শহরের মাটিডালী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, লং মার্চের ডাক দেওয়ার পর সরকারি দলের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, বিরোধী দল এত আগে লং মার্চ করছে কেন। অথচ ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণকে কেন অপমান করা হলো, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
সরকারের সাড়ে পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করেছেন। সাড়ে পাঁচ মাসে আপনারা কী করেছেন?’
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার কথা বলেছিল। কিন্তু এখন দুর্নীতির রেট বেড়েছে। কৃষকের সারসংকট, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।
চাকরিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নতুন কৌশলে রিটেন পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে ভাইভার নম্বর কমানো হয়েছে। দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের চাকরিতে বসানোর জন্য এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের চাকরির অধিকার ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত। বৈষম্য বরদাশত করব না।’
লং মার্চের আট দফা দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই আট দফা কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি। আট দফা মানা হলে এক দফার প্রয়োজন নেই। আর না মানলে এক দফার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
আগামী দিনের কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, এবারের লং মার্চ ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে হয়েছে। ‘আগামী লং মার্চ ইনশাআল্লাহ পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে হবে। এখন থেকেই প্রস্তুত থাকুন।’
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/ এজে




