শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ে নৌকা হারিয়ে বিপাকে জেলেরা, পাশে প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ে নৌকা হারিয়ে বিপাকে জেলেরা, পাশে প্রশাসন
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। ছবি: ঢাকা মেইল

রাজশাহীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদীতে হঠাৎ বড় ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তীরবর্তী মাঝি ও জেলেরা। কারও নৌকা ভেসে গেছে, কারও নৌকা তলিয়ে গেছে। নৌকার সঙ্গে মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামও হারিয়েছেন তারা। নৌকা রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন এক দম্পতি।

বুধবার রাতের ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টার দিকে টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা হঠাৎ বেড়ে যায়। এরপর নদীতে বড় বড় ঢেউ উঠতে থাকে। তীরে বাঁধা নৌকাগুলো ঢেউয়ের তোড়ে দুলতে শুরু করে। একপর্যায়ে একটি নৌকা ভেসে যায় এবং আরেকটি তলিয়ে যায়। নৌকায় থাকা মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামও নষ্ট হয়।

প্রতিবেশী শাহ জামাল মাঝির নৌকা ভেসে যাওয়া ঠেকাতে গিয়ে আহত হন রিমোন হোসেন ও তার স্ত্রী। নৌকার ধাক্কায় রিমোনের পা ভেঙে যায়। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

রিমোন হোসেন বলেন, ‘পায়ের এই অবস্থায় কোনো কাজ করতে পারছি না। সংসার কীভাবে চলবে, বুঝতে পারছিলাম না। আজ ডিসি স্যার এসে পরিবারের জন্য এক মাসের খাবার ও চিকিৎসার নগদ টাকা দিয়েছেন। এই বিপদে এটি আমাদের বড় ভরসা।’

শাহজামাল মাঝি বলেন, ‘হঠাৎ এত বড় ঢেউ উঠবে, কল্পনাও করিনি। ডিসি স্যার এসে আমাদের কষ্টের কথা শুনেছেন। দুঃসময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন-এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন জারজিস মাঝি। তার একমাত্র নৌকাটি জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ পদ্মায় তলিয়ে গেছে। এতে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জারজিস মাঝি বলেন, ‘সর্বনাশা পদ্মার ঢেউ এক রাতেই আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এই নৌকাই ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ। তবে ডিসি স্যার খোঁজ নিয়ে খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ায় অনেক উপকার হয়েছে।’

শনিবার সকালে টি-বাঁধের বটতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। পরে তিনি বলেন, বুধবার রাতে হঠাৎ বড় ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ নিতে তিনি সেখানে গেছেন। তাদের খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পবা উপজেলার মধ্যচরে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর