নির্ধারিত সময়ের পরও গভীর রাত পর্যন্ত চলছে যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা। সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণে দোকানপাট, রাইড ও বিভিন্ন আয়োজন জমে ওঠে। তবে মেলার অনুমতিপত্রে রাত আটটার মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার শর্ত থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জেলা প্রশাসনের অনুমতিতে ১৫ দিনের জন্য আয়োজিত এ মেলায় জুয়া, লাকি কুপন, র্যাফেল ড্র, মাদক বিক্রি ও সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলার আশপাশের নির্জন এলাকায় অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মেলায় আসা লায়লা খানম অভিযোগ করেন, সন্তানকে নিয়ে নদীর পাড়ের একটি বাথরুমে যাওয়ার সময় সেখানে তরুণ-তরুণীদের অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় দেখতে পান। তার স্বামী ইউনুস মিয়া বলেন, নদীর পাড়ে অল্প বয়সী কয়েকজনকে অনলাইন জুয়া খেলতেও দেখা গেছে।

এ ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম, বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় রাইড ও স্টল স্থাপন এবং স্কুলের ছাদে মাইকের হর্ন বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছে তারা।
হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ, আয়ান ও রাগীব জানায়, স্কুলের ছাদে মাইক বসিয়ে উচ্চ শব্দ করায় ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে।
ওরশ ও মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাতেই মেলা বেশি জমে। অনেক মানুষ এক জায়গায় থাকলে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে। এগুলো বন্ধে আমরা চেষ্টা করছি।’
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, জুয়া, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের পর মেলা চলা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে মেলা কমিটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। অনুমতিপত্রের সব শর্ত কঠোরভাবে মানতে হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




