বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

​কুমিল্লায় লোকালয়ে বানরের হানা, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

​কুমিল্লায় লোকালয়ে বানরের হানা, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

কুমিল্লার সীমান্তবর্তী উপজেলা ব্রাহ্মণপাড়ায় সম্প্রতি বন্য বানরের উৎপাত আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে বানরের দল ঢুকে বাসাবাড়ির ফলমূল ও শাকসবজি নষ্ট করছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর)  সকালে সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা গ্রামের খানবাড়িতে একদল বানর প্রবেশ করে। সেগুলো গাছে থাকা পেয়ারা, পেঁপে এবং চালার লাউ পেরে নষ্ট করে। এর এক সপ্তাহ আগে একই গ্রামের আব্দুল আলীম খানের বাড়িতেও একইভাবে ফলের ক্ষতি করে বানরের দল।

​একই চিত্র দেখা যায়, একই গ্রামের গাজীবাড়িতেও। সেখানকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল জানান, তাঁদের বাড়িতে বানর ঢুকে পেয়ারা ও আমড়াসহ বিভিন্ন ফল ছিঁড়ে নষ্ট করে নিয়ে গেছে।
​গত ১৫ দিন ধরে ধান্যদৌল চৌধুরী বাড়িসহ আশপাশের এলাকাতেও একাধিক বানরের বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চৌধুরী বাড়ির প্রধান শিক্ষক অপু খান চৌধুরী বলেন, "আমাদের বাড়িতে গত দুই সপ্তাহ ধরে কয়েকটি বানর ঘোরাফেরা করছে। বানরগুলো গাছ থেকে কলা, পেঁপে, পেয়ারা, জাম্বুরা ও লাউ ছিঁড়ে নষ্ট করছে। কোনোভাবেই এদের আটকানো যাচ্ছে না।"
​বর্তমানে উপজেলার সিদলাই, চান্দলা, শশীদল, মাধবপুর, মালাপাড়া, সাহেবাবাদ ও ব্রাহ্মণপাড়া সদরের বিভিন্ন গ্রামে বন্য বানরের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

​এ বিষয়ে সিদলাই আমীর হোসেন জাবেদা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বানর স্বভাবতই শান্ত ও দলবদ্ধ প্রাণী, তারা এভাবে লোকালয়ে হানা দেয় না। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় এরা লোকালয়ে চলে আসছে। বন্য প্রাণীর এই উপদ্রব থেকে ফসল ও ফলমূল রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

​ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, বর্তমানে বন ও প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় কেটে মানুষের বসতি ও বাগান গড়ে তোলার কারণে বনের আয়তন কমে যাচ্ছে। ফলে বন্য প্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে এবং তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিচ্ছে। খাবারের সন্ধান ও জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়েই বানরগুলো লোকালয়ে প্রবেশ করছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর