‘অবৈধ নোটিশ’ প্রত্যাহার করে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিটিক্যালস কারখানা খুলে দেওয়া এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর অশ্বিনীকুমার হল চত্বরে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিটিক্যালস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
পরে শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়।
ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিটিক্যালস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সহসভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক কমরেড ডা. মনিষা চক্রবর্তী। আরও বক্তব্য দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য শহিদুল শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক সুজন আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, পদ্মা ব্লোয়িং লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জসিম গাজী, গ্লোবাল ক্যাপসুল লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক ফয়সাল আহাম্মেদ এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিটিক্যালস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের কোষাধ্যক্ষ আসলাম হোসেন সজীব প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিটিক্যালস দীর্ঘদিন ধরে শ্রম আইন মানছে না। গত মার্চে মালিক, শ্রমিক ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী আগস্টের মধ্যে শ্রমিকদের পরিচয়পত্র, নিয়োগপত্রসহ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিগুলো পূরণের কথা ছিল। কিন্তু এসব দাবি পূরণ না করে আগস্টের বেতন পরিশোধ না করেই মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর এক শ্রমিক ও এক জুনিয়র অফিসারের মধ্যে বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তারা মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী দাবিদাওয়া আড়াল করতে ওই ঘটনাকে শ্রমিকদের অবৈধ ধর্মঘট হিসেবে আখ্যায়িত করে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় নোটিশের ভুল ব্যবহার করে তা জারি করে। 'অবৈধ ধর্মঘট' বলে দেওয়া এ নোটিশ অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ।
তাদের দাবি, শ্রমিকরা কোনো কর্মবিরতি পালন করেননি। বরং নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবিদাওয়া জানিয়েছেন। শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের ভয় দেখাতে ২৩ ধারায় সব শ্রমিককে একসঙ্গে এবং সাতজনকে পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এসব নোটিশ প্রত্যাহার, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিটিক্যালস কারখানা খুলে দেওয়া এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানানো হয়।
পরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়।
প্রতিনিধি/ এজে




