বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

কৃষকের জন্য কোটি টাকার হর্টিকালচার সেন্টার, উদ্বোধনের পরই ঝুলছে তালা

অহিদুজ্জামান, পিরোজপুর
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

কৃষকের জন্য কোটি টাকার হর্টিকালচার সেন্টার, উদ্বোধনের পরই ঝুলছে তালা
পিরোজপুরের নাজিরপুর হর্টিকালচার সেন্টার।

উন্নত জাতের বীজ, কলম ও আধুনিক কৃষিব্যবস্থার সুবিধা পাওয়ার আশায় ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকেরা। তাদের প্রত্যাশা ছিল, ঘরের কাছে গড়ে ওঠা সরকারি হর্টিকালচার সেন্টারটি কৃষিকাজে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। কিন্তু সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পিরোজপুরের নাজিরপুর হর্টিকালচার সেন্টারটি এখন সেই প্রত্যাশা পূরণের বদলে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিত সেন্টারটি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর থেকেই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে আধুনিক কৃষি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অধীন সারা দেশে কৃষকদের মধ্যে সুলভ মূল্যে উন্নত জাতের ফলজ, বনজ, ওষধি ও সবজির চারা, কলম ও বীজ সরবরাহের পাশাপাশি উদ্যান পালনে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিতে ৭৩টি হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নাজিরপুরে প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় এই হর্টিকালচার সেন্টার।

২০২৪ সালে আধুনিক অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সেন্টারটি জেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। তবে অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হলেও জনবল সংকটসহ নানা জটিলতায় সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু হয়নি।

76300fc2-5e69-44c4-b762-deb42f16a78c

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজে ঠিক কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য বা হিসাব তাদের কাছে নেই। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত ব্যয় ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও তালাবদ্ধ থাকায় কৃষকদের সুবিধার জন্য নির্মিত সেন্টারটির মাঠ এখন স্থানীয়দের ধান শুকানোর চাতাল ও গরু চরানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেন্টারের মাঠে জন্মেছে হোগলপাতা, কাশফুলসহ বিভিন্ন ধরনের ঘাস। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি অবকাঠামোর চত্বর এভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকের আড্ডাও বসে।

আরও পড়ুন

ম্যানগ্রোভ বন ঘেঁষে স্থাপনা নির্মাণ, হুমকিতে গঙ্গামতির জীববৈচিত্র্য

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল এখান থেকে ভালো মানের চারা, কলম আর বীজ কম দামে পাব। বড় বড় ভবন তৈরি হলো, জমি গেল, অথচ দীর্ঘদিন ধরে তালা ঝুলছে। কোনো কর্মকর্তা নেই, সাহায্য নেই। এত টাকা খরচ করে লাভ কী হলো, যদি সব কাজ বন্ধই থাকে?’

সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু না হওয়ার বিষয়ে পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, কৃষকদের মধ্যে উন্নত মানের চারা ও কলম উৎপাদন ও বিতরণের লক্ষ্যেই হর্টিকালচার সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এখনই সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

5333f472-2f9b-4a12-bcf9-0e5bf95ef079

সৌমিত্র সরকার আরও বলেন, জনবল নিয়োগের বিষয়টি সমাধান হলে এই অঞ্চলের কৃষকেরা বীজ ও আধুনিক চারা উৎপাদন ও বিতরণের সুফল পাবেন।

সরকারি অর্থে নির্মিত মূল্যবান এই অবকাঠামো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে না যায়, এমনটাই দাবি নাজিরপুরের সচেতন মহল ও কৃষিনির্ভর মানুষের। প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের মাধ্যমে দ্রুত নাজিরপুর হর্টিকালচার সেন্টারের কার্যক্রম চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চান স্থানীয় কৃষকেরা।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর