সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মানপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও নেটের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকটি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম জানান, চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার দুটি খামার প্রায় আড়াই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। খামারে বালি ও অন্যান্য মালামাল নেওয়া যাচ্ছে না। তার ইঞ্জিনভ্যান ও মোটরভ্যানও বাড়িতে নিতে পারছেন না। এতে ব্যবসা ও খামারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শরিফুল ইসলাম বলেন, রাস্তা বন্ধের ঘটনায় প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। পরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি-১১৩৯/২৬ নম্বর মামলা করেন। আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তার।
ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানায় একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পুলিশ সুপারের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়। তাঁর অভিযোগ, থানার ওসি বারবার ‘দেখছি’ বলে সময়ক্ষেপণ করছেন।
ভুক্তভোগী মনিরা বেগম বলেন, তারা প্রথমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। পরে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেড়া সরিয়ে পথ উন্মুক্ত করার নোটিশ দেওয়া হলেও সেটিও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।
আরেক ভুক্তভোগী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, তার দুটি খামার ও দুটি ভ্যান রয়েছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় খামারে যাতায়াত করতে পারছেন না। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৫ দিন ধরে থানায় যোগাযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুবুর রহমান বলেন, তার জানামতে, ওই জায়গায় আগে কোনো বেড়া ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে এটি যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আশপাশের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বেড়া দেওয়া পরিবারের সদস্যরাও আগে এই পথ দিয়ে চলাচল করতেন।

তবে প্রতিপক্ষ আমিরুল ইসলাম ও নাজমুল হুদার দাবি, জায়গাটি তাদের পারিবারিক কবরস্থানের অংশ। তারা ওই জমির অংশীদার এবং জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। কবরস্থানের নিরাপত্তার জন্য বেড়া দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সামান্য জায়গা রাখা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আমিরুল ইসলাম ও নাজমুল হুদা আরও বলেন, তাদের জমির অংশ নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং এ বিষয়ে দেওয়ানি মামলা চলছে। ভুক্তভোগীদের জমির দাবিও তারা অস্বীকার করেন।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুক মন্টু বলেন, বিষয়টির পেছনে মূলত পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। তার বয়স প্রায় ৩৬ বছর এবং জন্মের পর থেকেই তিনি ওই পথে চলাচল করে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে চলাচলের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথও ছিল।

তিনি বলেন, বিরোধের পর বেড়া দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে মাপজরিপ করে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আলোচনার জন্য দিনও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত বৈঠকের আগেই এক পক্ষ জানায়, তারা আর আলোচনায় বসবে না। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখছি।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. বায়েজীদ ইসলাম বলেন, ‘আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখি, আর কী কী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।’
প্রতিনিধি/এসএস




