বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

নেত্রকোনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু, নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ এএম

শেয়ার করুন:

নেত্রকোনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু, নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারুফ খান (২২) নামের এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। একই দিন আটপাড়া উপজেলার মগড়া নদী থেকে অমিত (৯) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন।

মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে মদন আদর্শ পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারুফের মৃত্যু হয়।

মারুফ খান মদন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মদন কান্দাপাড়া গ্রামের আশিক খান কপির ছেলে। তিনি পুরান ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মা পপি আক্তার মদন পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মারুফের বাবা আশিক খান মদন আদর্শ পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাস ভবনের সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন। বাবার সঙ্গে মারুফও নিয়মিত কাজ দেখাশোনা করতেন। মঙ্গলবার সকালে বাবার সঙ্গে তিনি বিদ্যালয়ে যান।

সেখানে ভবনের গ্রিলের সঙ্গে একটি ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ঝুলছিল। অসাবধানতাবশত গ্রিল স্পর্শ করলে মারুফ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তার বাবা বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করার পর তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মারুফের বাবা আশিক খান বলেন, ‘আমি ওই বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ পাই। আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকায় আমার ছেলেই আমাকে নিয়ে কাজ দেখাশোনা করত। আজ বাপ-বেটা একসঙ্গে বিদ্যালয়ে কাজ দেখতে যাই। পরে গ্রিলের সঙ্গে থাকা ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের তারে হাত দেওয়ামাত্রই আমার ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে আমি লাইন বন্ধ করলে আমার ছেলে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।’

Death

তিনি বলেন, ‘আমার ভরসাই ছিল একমাত্র মারুফ। তাকে সিঙ্গাপুরে কাজে পাঠানোর জন্য টাকা দেওয়া হয়েছিল। আমার ছেলে আর বিদেশে যেতে পারল না। আমি অসুস্থ। জানি না এখন আমার সংসার কীভাবে চলবে।’

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।

নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

এদিকে মঙ্গলবার সকালে আটপাড়া উপজেলার মগড়া নদী থেকে নিখোঁজ অমিতের (৯) মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন। অমিত উপজেলার সোনাজুর গ্রামের প্রণয়ের ছেলে।

পরিবারের বরাত দিয়ে আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুবায়দুল আলম জানান, সোমবার সন্ধ্যা থেকে অমিত নিখোঁজ ছিল। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় নৌকায় ওঠার সময় অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে তলিয়ে যায় অমিত।

মঙ্গলবার সকালে মগড়া নদীতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন তা উদ্ধার করে স্বজনদের খবর দেন।

ওসি জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলার আবেদন করতে বলা হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ তাদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর