মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ধান কেনায় অনিয়মের সংবাদ, সাংবাদিককে খাদ্য কর্মকর্তার গালাগাল

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

ধান কেনায় অনিয়মের সংবাদ, সাংবাদিককে খাদ্য কর্মকর্তার গালাগাল
সদ্য বদলি হওয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান।

নেত্রকোনায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বদলি হওয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকামেইলের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি সাইফুল আরিফ জুয়েলের মুঠোফোনে কল করে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন মোয়েতাছেমুর রহমান। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।

জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামে একই কৃষকের নামে একাধিকবার ধান কেনা, অস্তিত্বহীন বা ‘গায়েবি’ কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ এবং কাগজপত্রে ধান কেনাকাটার তথ্য দেখানোর মতো অনিয়মের বিষয় খাদ্য অধিদফতরের তদন্তে উঠে আসে। এসব অনিয়মের ঘটনায় তদন্তের পর গত ৩১ আগস্ট বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে নেত্রকোনা থেকে বদলি করে ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়।

সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েল বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এসব বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তার ওপর ক্ষিপ্ত হন মোয়েতাছেমুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে ফোন করে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।

আরও পড়ুন

পালিত পুত্রের কাছে কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে দিয়ে নিঃস্ব বাবা

সাইফুল আরিফ জুয়েল বলেন, ‘‘বিরিশিরি খাদ্যগুদামে বেনামি ও গায়েবি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের বিষয়টি খাদ্য অধিদফতরের তদন্তেই উঠে এসেছে। অনিয়মের কারণে গুদাম কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বদলি করা হয়েছে। আমি সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। প্রতিবেদনে বদলি হওয়া কর্মকর্তার বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে। এরপরও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। খাদ্য অধিদফতরের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’’

খাদ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়টি অধিদফতরের তদন্তে উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, চলতি বছরের শুরু থেকে নেত্রকোনার কয়েকটি উপজেলায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও চাল বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন মোয়েতাছেমুর রহমান। স্থানীয়ভাবে একটি চক্র গড়ে তুলে অধীনস্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের চাল বাণিজ্য করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে খাদ্য অধিদফতরের নজরদারি ছিল বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

তবে সাংবাদিককে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগের বিষয়ে মোয়েতাছেমুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাকে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর