শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জ্বর, শরীরব্যথা, দুর্বলতাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন রোগীরা। শুধু আগস্ট মাসেই প্রায় ১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তি আছেন দুজন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবাই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূত্রে বসবাস করে ঝিনাইগাতীতে বাড়িতে ফিরেছেন। আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত সবাই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস ভারতের মেঘালয়ঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায়। সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ঘেঁষা এ উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়। এতে মশার বংশবিস্তার বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে অনেকে জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা এবং বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গের কথা জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে বাড়িতে চিকিৎসা নেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে রোগ শনাক্ত হয়।
ডেঙ্গু আক্রান্ত কয়েকজন রোগীর অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পেলেও হাসপাতাল ও আশপাশের পরিবেশ যথেষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়। বর্ষা মৌসুমে হাসপাতাল এলাকায় মশার উপদ্রবও বেড়েছে।

ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি জাহিদুল হক মনির বলেন, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ডেঙ্গু বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি জমে থাকা পানি পরিষ্কার এবং নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম চালু করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবাই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূত্রে বসবাস করে ঝিনাইগাতীতে বাড়িতে ফিরেছেন। হাসপাতাল ও এর আশপাশের সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়াই যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম এবং ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলে ঝিনাইগাতীতে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
প্রতিনিধি/এসএস




