পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজের মেয়েকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে অহিদুল মোল্লা নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বৈবুনিয়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত অহিদুল মোল্লা বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার ডোবাতলা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। সে নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বৈবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করত এবং পেশায় একজন অটোচালক।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান মিয়াসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অহিদুলের প্রথম স্ত্রী কয়েক বছর আগে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বিষপানে আত্মহত্যা করেন। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে দুই জমজ ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। ভিকটিম শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অহিদুল পুনরায় বিবাহ করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে প্রবাসে থাকায় ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে সে বসবাস করছিল।
ভুক্তভোগী শিশু জানায়, তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিল তার পিতা। দুই মাস আগে বিষয়টি দাদিকে জানালে দাদি কাউকে বলতে নিষেধ করেন এবং ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেয় অহিদুল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে শিশুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে।
পরে অহিদুল বাড়িতে ফিরলে স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দেয়। একপর্যায়ে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
খবর পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় অভিযুক্ত অহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয় এবং পুলিশ পাহারায় রাখা হয়।
এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ভিকটিমকে উদ্ধার করে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এফএ




