ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় মো. রুবেল ইসলাম রুবেল রানা নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া অপহরণের অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুই ধারায় দেওয়া সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় দেন।
আদালতের রায় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার আগে প্রায় তিন মাস ধরে রুবেল ইসলাম রুবেল রানা তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময় কথা বলতেন। তাকে প্রেম ও ভালোবাসার প্রস্তাবসহ নানা ধরনের লোভ দেখানো হতো বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে ওই কিশোরী রুহিয়া থানার এলাকায় তার মাসির বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঢোলারহাট বাজারের তিন রাস্তার মোড়ের অটো রিকশা স্ট্যান্ডে আসে।
এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন রুবেল। তিনি ওই কিশোরীকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে এবং ভুল বুঝিয়ে সেখান থেকে অজ্ঞাত একটি বাড়িতে নিয়ে যান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বাড়িটি আসামির আত্মীয়ের বাড়ি বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল।
বাড়িতে যাওয়ার পর কিশোরী সেখান থেকে চলে আসতে চাইলে রুবেল তাকে বাধা দেন। পরে তার সঙ্গে গল্প ও কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। একপর্যায়ে বিয়ের লোভ দেখিয়ে তাকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
এদিকে মেয়েকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের মধ্যেও জানাজানি হয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন রুবেলের ওপর ওই কিশোরীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রুবেল একটি অটো রিকশায় করে ওই কিশোরীকে তার বাড়ির দিকে পাঠিয়ে দেন। রাত ২টা ১৫ মিনিটে বাড়ি ফেরে কিশোরী। এরপর পরিবারের সদস্যদের কাছে সে পুরো ঘটনার কথা জানায়। পরে ওই কিশোরীর বাবা রুহিয়া থানায় গিয়ে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে আদালত মামলার সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামি রুবেল ইসলাম রুবেল রানাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে আদালত আরও বলেন, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামি বা তার বিদ্যমান সম্পদ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা হবে। প্রয়োজন হলে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতে জমা হওয়ার পর তা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে রায়ে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি রুবেল ইসলাম রুবেল রানা পলাতক ছিলেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল। আসামিপক্ষে ছিলেন মো. আবু নাঈম।
প্রতিনিধি/এলএ




