ঢোলের তালে তালে লাঠির ছন্দ, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত কসরত এ যেন ফিরে আসা গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা দিন। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় উপজেলার ১১ নম্বর মরিচা ইউনিয়নের নাগরগঞ্জ স্কুল মাঠে এই আয়োজন করা হয়। মরিচা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আমিরুল বাহার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহেদুল ইসলাম মাজু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত জুলিয়াস জুয়েল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও ১১ নম্বর মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তানভীর চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শাহাজাহান সিরাজ শিপন, মরিচা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আহসান হাবীব শামিম হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আল মামুন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লাঠি খেলাকে ঘিরে বিকেল থেকেই নাগরগঞ্জ স্কুল মাঠে মানুষের ঢল নামে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ মাঠের চারপাশে জড়ো হয়ে উপভোগ করেন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ খেলা।
ঢোলের তালে তালে খেলোয়াড়দের লাঠির কসরত, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং চমকপ্রদ নৈপুণ্যে মুহূর্তেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। খেলোয়াড়দের দ্রুতগতির লাঠি চালনা ও কৌশলী নৈপুণ্যে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। অনেকেই মুঠোফোনে ধারণ করেন ঐতিহ্যবাহী এ খেলার দৃশ্য।
খেলা দেখতে আসা স্থানীয় দর্শনার্থীরা বলেন, আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা এখন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় গ্রামের বিভিন্ন উৎসব ও আয়োজনে লাঠি খেলা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। সময়ের পরিবর্তনে সেই জায়গা দখল করেছে আধুনিক বিনোদন।
দর্শনার্থীরা আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু মানুষের বিনোদনের খোরাকই জোগায় না, বরং নতুন প্রজন্মকে দেশের শেকড়, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশও তৈরি হয়।
আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর পরিচিতি তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতির এসব অনুষঙ্গ নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
ভবিষ্যতেও এমন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
প্রতিনিধি/এএম




