শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

প্রশাসনের আলটিমেটামে ফিরল লুট হওয়া হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের ব্লক

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রশাসনের আলটিমেটামে ফিরল লুট হওয়া হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের ব্লক
পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দিচ্ছে ব্লক। ছবি: ঢাকা মেইল

প্রশাসনের আলটিমেটামের পর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের চরহাইজদা ফসল রক্ষা বাঁধ থেকে লুট হওয়া ২ হাজার ৬৪৪টি ব্লক ফেরত দিয়েছে স্থানীয় লোকজন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

গত ১৮ আগস্ট রাত থেকে সপ্তাহ ধরে উপজেলার করাচাপুর গ্রামের সামনে থাকা বাঁধের ওপর থেকে এসব ব্লক লুট করে নিয়ে যায় স্থানীয় লোকজন।

বাঁধের ব্লক লুট হওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও পাউবো। 

এ নিয়ে ২৩ আগস্ট পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন মোহনগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরে পুলিশ গিয়ে সংশ্লিষ্ট লোকজনের বাড়িঘরে লুট হওয়া ব্লকের সন্ধান পায়। তাদের যথারীতি ব্লক আগের স্থানে রেখে আসতে বলে পুলিশ। অন্যথায় আইনিব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেয়।

পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও লুট হওয়া ব্লক উদ্ধারে স্থানীয় লোকজনের সাথে আলোচনা করে ফেরত দিতে উদ্বুদ্ধ করেন।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্লক ফেরত দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়ে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

তারপর গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাঁধের লুট হওয়া ব্লক ফিরতে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লুট হওয়া সব ব্লক ফেরত এসেছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ২০১৯ সালে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৫.৩ কিলোমিটার স্থানে ব্লক দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। হাওরের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানসহ পাশের খালিয়াজুরি উপজেলার কয়েকটি হাওরের ফসল বন্যার পানি থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ব্লক নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন জানিয়েছেন, শুরুতে তারা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। পরে পুলিশ ও পাউবোর কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে বোঝানোর পর নিজেরাই নৌকায় করে ব্লকগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। ব্লকগুলো নিয়ে গিয়ে তারা কিছু ব্লক গোয়ালঘরে, কিছু মাচার নিচে এবং কিছু হাওরে নামার সিঁড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। কেউ কেউ বাড়ির পাশে ঢেউ থেকে রক্ষার জন্যও সেগুলো রেখেছিলেন।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সব ব্লক ফেরত এসেছে। ইতোমধ্যে ব্লকগুলো নির্ধারিত স্থানে বসানো হয়েছে। পানি নেমে গেলে সিমেন্ট দিয়ে ব্লকগুলো শক্তভাবে স্থাপন করা হবে।

গাগলাজুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী বলেন, পাশের ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের লোকজন রাতে বাঁধ থেকে ব্লক নিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ তাদের বাড়িতে ব্লক দেখতে পেয়েছে। পরে পুলিশ, প্রশাসন, পাউবো ও স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত সব ব্লক ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্লকের সন্ধান পায়। তাদের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্লকের কারণে বাঁধ দুর্বল হয়ে ফসলের ক্ষতি হতে পারে, এ বিষয়টি তাদের বোঝানো হয়। যারা ব্লক নিয়ে গিয়েছিলেন, তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন, এটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও তাদের অবগত করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে ব্লক ফেরত দিয়ে গেছে, এটা ইতিবাচক। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া উপায় ছিল না। ভবিষ্যতে কেউ ব্লক লুট বা বাঁধের কোনো ক্ষতি করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর