উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজশাহীতে ক্রমেই বাড়ছে পদ্মার পানি। ইতোমধ্যে বিপৎসীমার মাত্র ৮৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি। এতে দক্ষিণের চরাঞ্চলগুলোতে ঢুকে পড়েছে পানি। তলিয়ে গেছে চর খিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার।
রাজশাহীতে পদ্মার বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার হলেও শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তা ১৭ দশমিক ২০ মিটারে পৌঁছায়।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, পদ্মায় পানি বাড়লেও রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে এখনই কোনো ঝুঁকি নেই। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বাঁধের কোথাও কোনো ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানির স্তরের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও দক্ষিণের চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৫ মিটার। শুক্রবার সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ২০ মিটারে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে গত দশ দিন ধরেই পদ্মায় ধারাবাহিকভাবে পানি বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় প্রতি ঘণ্টায় অন্তত দুই সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক শূন্য ৫ মিটার থাকলেও, বেলা তিনটায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ১২ মিটারে। অর্থাৎ, মাত্র তিন ঘণ্টায় পানি সাত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রাজশাহী শহরের পাশে পদ্মার ওপারে ভারত সীমান্তঘেঁষা চর খিদিরপুর ও খানপুরের বেশিরভাগ অংশ তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দেওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারগুলোর মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এমআর




