বগুড়ায় আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে মহড়া দেওয়ার পর হামলায় গুরুতর আহত মোকছেদুল হাসান (৩৮) মারা গেছেন। হামলার সাত দিন পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সদর উপজেলার বারোপুর মৌজায় ন্যাশনাল ফ্যান কোম্পানির মালিকানাধীন ৩২ বিঘার আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তিনি হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে জয়পুরপাড়ায় জারা কার হাউসের বিপরীতে বসে ছিলেন মোকছেদুল। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল মোটরসাইকেল ও হাইস গাড়িতে করে সেখানে আসে। তাদের কয়েকজনের হাতে ছিল পিস্তল, রামদা ও হকিস্টিক।
ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়াতে এবং সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দিতে ওই দলের সদস্যরা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপর মোকছেদুলকে একা পেয়ে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তারা।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোকছেদুলকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর মোকছেদুলের মা মোছা. রেবেকা বেগম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাজমুল হুদা রাফিত (২১) ও মো. হাছান আকন্দকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বোরের পিস্তলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘হামলায় আহত মোকছেদুল হাসান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরসহ আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।’
প্রতিনিধি/এমআই




