জীবিত মায়ের কাছে আসতে না পারলেও প্রাণহীন মায়ের কাছে এসেছে চিন্ময়। মা সন্ধ্যা রানীর শেষ যাত্রায় ৫ ঘণ্টার সঙ্গী হয়েছেন ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। মায়ের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী পুণ্ডরিক ধামেই শেষকৃত্যর আয়োজন করে ছেলে চিন্ময়। শেষ যাত্রায় যোগ দিয়ে ফের কারাগারে যেতে হলো তাকে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে নির্ধারিত প্যারোল মুক্তি শেষে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন।
এরআগে সকাল ৯ টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানী ধর মারা যান।
এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫ ঘন্টার প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিকাল ৩টার দিকে মায়ের শেষ যাত্রার সঙ্গী হতে পুণ্ডরিক ধামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন চিন্ময় দাস। সেখানে ধর্মীয় আচার ও শেষকৃত্য শেষে ফের কারাগারে ফেরত আসেন তিনি।
এসময় পুণ্ডরিকধামসহ চিন্ময় দাসের যাতায়াতের পথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছিলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধামেও অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
কারাগারে ফেরত যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ। তিনি জানান, প্যারোল শেষে রাত ৮ টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরিক ধামের প্রধান সেবায়েত।
২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের সমাবেশের পর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। ওই মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার জামিন নামঞ্জুরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন।
ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাতেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আসামি করা হয়।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে জামিন হলেও একাধিক মামলা চলমান থাকায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এআরএম




