সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেন। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোংলায় কোস্ট গার্ডের বেজে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন তারা। এর আগে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি সিক্স শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান।

এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৮ মিলিমিটারের পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, চারটি পিস্তলের ম্যাগাজিন এবং দুটি এয়ারগানের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেন তারা।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মফিজুল ইসলাম (৩৫), মিন্টু গাজী (৩৯), শাহজাহান মালী (৩৫), আজিজুর রহমান (৪৫) ও আজিজুল গাজী (৩৫)। তাদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

কোস্ট গার্ড জাহাজ বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান ও বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করছে। এসব অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর তৎপরতা অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় বনদস্যু ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
প্রতিনিধি/এসএস




