বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ফারুকের উদ্যোগে মাটির নিচে ড্রেন, জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা হাজার বিঘার ধান

মো. ফারুক হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ এএম

শেয়ার করুন:

ফারুকের উদ্যোগে মাটির নিচে ড্রেন, জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা হাজার বিঘা ধান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাউলি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুক। স্থানীয় প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য নিজের খরচে মাটির নিচ দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করেছেন তিনি। এতে বর্ষায় পাঁচটি মাঠের অতিরিক্ত পানি দ্রুত খালে নেমে যাচ্ছে। ফলে জলাবদ্ধতার কারণে ফসলের ক্ষতি কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষক, বাসিন্দা ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাউলি এলাকার নবাবগঞ্জ-আমনুরা সড়কের একটি কালভার্টের নিচ দিয়ে আমনুরা-সংলগ্ন দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার অন্তত পাঁচটি মাঠের বর্ষার পানি নিষ্কাশিত হয়। এত দিন নির্দিষ্ট কোনো ড্রেন না থাকায় বিপুল পরিমাণ পানি ধানের জমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতো। এতে নিচু এলাকার জমি তলিয়ে গিয়ে ফসল নষ্ট হতো এবং কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়তেন।

ecd974fe-35d3-47f2-996d-2b8183098359

এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসেন উমর ফারুক। কালভার্টসংলগ্ন নিজের পতিত জমি ভরাট করে মাটির নিচে ঢালাই করা কংক্রিটের পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন তিনি। এতে জমির ওপরের অংশ ব্যবহার করা গেলেও নিচ দিয়ে পানি চলাচলের পথ সচল রয়েছে।

c1113318-cbf0-44af-8eaf-23f041e96c0e

উমর ফারুক বলেন, ‘আমি নিজেও একজন কৃষক, তাই কৃষকদের কষ্টটা বুঝি। কালভার্ট ও সরকারি খালের মাঝের এই জমিতে সব সময় পানি জমে থাকায় কোনো ফসল হতো না। জমিটি ভরাট করে ফলবাগান করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু আশপাশের পাঁচটি মাঠের হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাশনের কথা ভেবে সেই পরিকল্পনা বাদ দিই। প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করে মাটির নিচ দিয়ে ড্রেনটি নির্মাণ করেছি। এখন ওপর দিয়ে ফসলও ফলানো যাচ্ছে, আবার নিচ দিয়ে কৃষকদের পানি নির্বিঘ্নে সরছে।’

e1b8aa57-ba84-400c-b0de-9d7d58cfc600

ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা ফারুকের উদ্যোগটি কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী। তার দাবি, ড্রেন নির্মাণের ফলে আগে পানি সরতে যেখানে পাঁচ-ছয় দিন লাগত, এখন সেখানে এক-দুই দিনের মধ্যে পানি নেমে যাচ্ছে। প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমি জলাবদ্ধতার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

লুৎফর রহমান আরও বলেন, ‘যেটা সরকারি উদ্যোগে করা উচিত ছিল, সেটা তিনি নিজ উদ্যোগে নিজের খরচে নিজের জমির ওপর দিয়ে করে দিয়েছেন। এজন্য কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুককে ধন্যবাদ জানাই।’

d804fefa-6d86-4af8-9983-8e87c1eeb56a

স্থানীয় কৃষক রহমত আলী বলেন, ‘ধানের ওপর দিয়ে আর পানি না যাওয়ায় নিচু মাঠের প্রায় এক হাজার বিঘা জমির ফসল ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাচ্ছে।’

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হওয়ায় নতুন উদ্যমে চাষাবাদে ফিরেছেন তারেক রহমান, আব্দুর রহিম ও আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় শত শত কৃষক।

ঝিলিম ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, আগে অনিয়মিতভাবে ধানের জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। এখন কৃষি উদ্যোক্তা উমর ফারুকের নির্মাণ করা আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন দিয়ে নিয়মিত পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। কোনো বাধা ছাড়াই পানি নামতে পারায় হাজার বিঘা জমির ফসল রক্ষায় ড্রেনটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর