ফেনীতে সংখ্যালঘু পরিবারের এক কন্যাকে ভালোবেসে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মামলায় মো. শাকিল হোসেন (২০) নামের এক যুবকের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর), ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোরশেদ খান আদালতের যাবতীয় কার্যক্রম শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের হোটাটিয়া গ্রামের ব্যাপারী বাড়ির মো. মান্নান হোসেনের ছেলে। রায় ঘোষণাকালে মামলার একমাত্র আসামি পলাতক ছিলেন।
মামলার এজহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ নানা বাড়ি সংলগ্ন মো. শাকিল হোসেনের সাথে শিবানী রানী পালের নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানির পর হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের কারণে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও পারিবারিক বাধার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে, ২০১৯ সালের ১৬ জুন সকালে দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়াপুর বদরের নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় তারা। ২৩ জুন দুপুরের দিকে প্রেমিক যুগলকে লক্ষীপুরের হোটাটিয়া গ্রাম থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় শিবানী রানী পাল প্রেমিক শাকিলকে একমাত্র আসামি করে দাগনভূঞা থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ফেনী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দাগনভূঞা থানার এসআই মো. মনোয়ার হোসেন।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতনের দমন ট্রাব্যুনালের পিপি শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, মামলাটির একমাত্র আসামি শাকিল জামিন নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। আদালত আইনগত যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আসামি মো. শাকিল হোসেনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন।
প্রতিনিধি/ এজে




