দীর্ঘ ২৪ মাস বন্ধ থাকার পর ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সীমিত পরিসরে আবার চালু হয়েছে। চালুর প্রথম দিনেই এক দরিদ্র প্রসূতির সফল সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পূর্ণ গর্ভকাল শেষে প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন উপজেলার গোন্দারদিয়া গ্রামের জান্নাতি (১৮)। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে তার সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ওটিতে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হয়। জন্ম নেয় একটি সুস্থ নবজাতক। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।
অপারেশনটি করেন চিকিৎসক ডা. সৌরিয়া সুলতানা। তাকে সহযোগিতা করেন ডা. শাহবাজ খান। ওটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওটি ইনচার্জ ফারজানা আহাম্মেদ চৈতি।
দীর্ঘদিন পর ওটি চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারসেবা চালু থাকলে বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার খরচ ও ভোগান্তি কমবে।

জান্নাতির দাদি সুফিয়া বেগম বলেন, “আমরা খুবই গরিব মানুষ। নাতনিকে নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। কোথায় যাব, কীভাবে চিকিৎসার খরচ দেব—এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমাদের অনেক ভরসা হয়েছে। অপারেশনও সফল হয়েছে। এখন আমার নাতনি ও তার সন্তান দুজনেই ভালো আছে।”
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল আমিন সারোয়ার বলেন, সীমিত পরিসরে ওটি চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। মা ও শিশুকে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “হাসপাতালে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও একজন অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা গেলে নিয়মিতভাবে এ সেবা চালু রাখা সম্ভব হবে। এতে মধুখালীসহ আশপাশের এলাকার অনেক মানুষ উপকৃত হবেন।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিশ্চিত করে ওটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




