বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ফেনীতে যুবদল কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ফেনীতে যুবদল কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী।

ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নে চাঁদা না দেওয়ায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নামে এক যুবদল কর্মীকে অপহরণ করে মারধর, সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেনী শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। তিনি মধ্যম ধলিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা এবং বালুয়া চৌমুহনী বাজারে ফার্নিচারের ব্যবসা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, বালুয়া চৌমুহনী বাজারে তার পাশের দোকানদার দেলোয়ার হোসেন টুকুর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেন ছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর সেই লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বেশ কিছুদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কুদ্দুস বলেন, দাবিকৃত চাঁদা দিতে না পারায় সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ২০ থেকে ২৫ জন তার দোকানে এসে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে চিন্তারপোল এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধলিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আমিনুল হকের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার পকেটে থাকা ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার কাছে টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

কুদ্দুস আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জোর করে নেওয়া স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ধলিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আমিনুল হক বলেন, তাদের দলের কর্মী টুকু ও কুদ্দুসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছে। তারা বেশ কিছুদিন ধরে ওই বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে কুদ্দুসকে অপহরণ করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া বা সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

ফেনী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল দাস বলেন, ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর