শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, তীব্র লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় গাইবান্ধা বাণিজ্যমেলা-২০২৬ স্থগিতের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
জেলার সচেতন নাগরিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস, জেলা শাখার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খুদি, সদস্য সচিব রাহাদ ইবনে শহীদ, পৌর আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবীর তনু, গণ অধিকার পরিষদ সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ অনেকে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে গাইবান্ধার ব্যবসায়িক পরিবেশ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনা না করেই বাণিজ্যমেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় জনস্বার্থ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেলা স্থগিত অথবা পুনর্বিন্যাসের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে মোট আটটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বর্তমান সময়ে মেলার আয়োজন বন্ধ করে ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারি মাসে মেলা আয়োজন, মেলার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন নির্ধারণ, মোট স্টলের ৭০ শতাংশ স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।
এ ছাড়া অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ স্টল গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য বিক্রেতাদের জন্য বরাদ্দ, মেলা প্রাঙ্গণে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি নিরুৎসাহিত করা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে গাইবান্ধা সদর উপজেলা মডেল স্কুলের অতি নিকটে মেলা আয়োজন না করা এবং পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে মেলা আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য মেলায় বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার এবং মেলা থেকে অর্জিত মুনাফার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কল্যাণে ব্যয় করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বাণিজ্যমেলার আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু বিনোদন বা ব্যবসায়িক দিক নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মেলা আয়োজন করলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস জানান, স্মারকলিপিতে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন এবং বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে গাইবান্ধা বাণিজ্যমেলা-২০২৬ স্থগিত বা পুনর্বিন্যাসে জেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/ এজে




